নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিয়োগ দুর্নীতির জাল ছড়িয়েছে সারা রাজ্যজুড়ে। একাধিক ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। প্রতি সপ্তাহে চড়ছে ঘটনার পারদ। এবার তদন্ত চলাকালীন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল সিবিআইয়ের হাতে। অভিযোগ, প্রাইভেট টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের সময়েও কারচুপি চলত। শুধুমাত্র নিয়োগের ক্ষেত্রে নয়, ডিএলএড সার্টিফিকেট দেওয়ার সময়েও বেনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করছে সিবিআই।
আরও পড়ুনঃ Kuntal on Partha: পার্থ সম্পর্কে বিস্ফোরক অভিযোগ কুন্তলের, হাতিয়ার খুঁজে পেল ইডি


কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে দাবি করা হচ্ছে, প্রাইভেট টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ক্লাস না করে, এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও মিলেছে সার্টিফিকেট। পুরো বিষয়টি হয়েছে টাকার বিনিময়ে। এখানেই শেষ নয়, প্র্য়োজনে টাকার বিনিময়ে ২-৩ বছর আগের ব্যাকডেটেও রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ, তাপস মণ্ডল সহ বিভিন্ন প্রাইভেট টিচার্স ট্রেনিং কলেজের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এই তথ্য।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এর আগে অল বেঙ্গল টিচার্স ট্রেনিং অ্যাচিভার্স নামে তৃণমূলের মদতপুষ্ট সংগঠনের সভাপতি ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। মানিকের দুর্ঘটনার পরে সেই পদে বসানো হয় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ শিক্ষাব্যবসায়ী তাপস মণ্ডলকে। এখনও পর্যন্ত তিনি ওই সংগঠনের সভাপতির পদে আছেন। তাপস মণ্ডল ইতিমধ্যে দু’দফায় ইডির জেরায় জানিয়েছেন বিএড, ডিএলএড কলেজের ছাত্রপিছু টাকা তুলে মানিক ভট্টাচার্যের কাছে পাঠানো হত।
পরীক্ষা না দিয়েও মিলেছে সার্টিফিকেট, কী খুঁজছে সিবিআই

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অনলাইনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরে অফলাইনে ভর্তি হত। এর জন্য ছাত্র পিছু ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হত। সেই টাকা চলে যেত মানিকের কাছে। রাজ্যে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ রয়েছে ৬৪৯টি। গড়ে ২৫ জন ছাত্র হলে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১৬ হাজার ২২৫। ২০১৮-২০, ২০১৯-২১, ২০২০-২২ এই তিন শিক্ষাবর্ষে টাকা তোলা হয়েছে হবু শিক্ষকদের কাছ থেকে। বছরে আনুমানিক টাকার অঙ্কর ৮ কোটির বেশি। প্রায় ২৫ কোটি টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে মানিকদের বিরুদ্ধে।









