দ্বিতীয় দফার ভোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র যেন আলাদা করে নজর কেড়েছে। ভোটের আগের কয়েক দিন ‘সিংহম’ বনাম ‘পুষ্পা’ তর্কে উত্তপ্ত ছিল রাজনীতি, কিন্তু ভোটের দিন ছবিটা ছিল খানিক আলাদা—একজন সারা দিন ঘুরে বেড়ালেন, অন্যজন থাকলেন কার্যত আড়ালে। তবে নীরবতার আড়ালেও থেমে থাকেনি বিতর্ক, বরং দিনের শেষে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতি।
ভোটের দিন সকালে থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় টহল শুরু করেন ‘সিংহম’ নামে পরিচিত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। শিরাকল থেকে ডায়মন্ড হারবার—একাধিক জায়গায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। কখনও সিআরপিএফ ক্যাম্পে বৈঠক, কখনও কনভয়ে চড়ে এলাকা পরিদর্শন—সারাদিন কার্যত ময়দানে ছিলেন এই আধিকারিক। তবে সরাসরি কোনও বুথে নেমে হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি তাঁকে; প্রশাসনের একাংশের মতে, তিনি ‘রুলবুক’ মেনেই কাজ করেছেন।


অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায়। দিনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি কাটিয়েছেন নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর বেরিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, “হাজার সিংহম এলেও আমি একই ভাবে ভোট করাব।” কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ তুলতেও শোনা যায় তাঁকে।
ভোটের মাঝেই সামনে আসে বিতর্কের নতুন অধ্যায়। ফলতার হরিণডাঙার একটি বুথে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের উপর টেপ লাগানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়, বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মীরা। যদিও ওই বুথে যাননি অজয়পাল, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাহিনী সক্রিয় ছিল বলে প্রশাসনের দাবি।
ভোট মিটতেই নতুন দাবি সামনে এনেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাদের অভিযোগ, একাধিক বুথে অনিয়ম হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে বিজেপি, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি—৩২টি বুথ—ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই। পাশাপাশি মগরাহাটে ১৩টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৯টি এবং বজবজে ৩টি বুথেও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে।


প্রসঙ্গত, ভোটের আগের রাতে জাহাঙ্গিরের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অভিযানের পর থেকেই এই কেন্দ্র নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। সেই আবহেই ভোটের দিন ‘সিংহম’ বনাম ‘পুষ্পা’ সরাসরি সংঘর্ষ না হলেও, নীরব লড়াই চলেছে দুই পক্ষের মধ্যে—যার রেশ এখন গড়িয়েছে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে।








