দীর্ঘ ৬৫ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তল্লাশি অভিযানের পর মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সোমবারই তাঁকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিতে চায় তদন্তকারী সংস্থা। গত ৬৫ ঘন্টা ধরে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এনিয়ে মুখ খুলতে দেখা গেল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর কথায়, ইটস আ গেম প্ল্যান।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত ও তল্লাশি করতে শুক্রবার হাজির হয়েছিল সিবিআইয়ের একটি দল। সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির পাশের পুকুরে ফোন ফেলে দিয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ। রবিবার সকালে প্রথম ফোনটি উদ্ধার হয়েছিল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মিলল জীবনকৃষ্ণের দ্বিতীয় ফোন। গত কয়েক ঘন্টা ধরে তল্লাশি অভিযানের পর বিরাট সাফল্য পেল সিবিআই।
ফোন দেখা মাত্রই নিজের ফোন বলে দাবি করেছিলেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। অথচ বিকেল গড়াতে অন্য ছবি দেখা গেল। সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হচ্ছে, সকালে উদ্ধার হওয়া ফোনটি জীবনকৃষ্ণের স্ত্রীর! সিবিআইকে বিভ্রান্ত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। এমনটাই মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।
চাকরিপ্রার্থীদের সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার জন্য কুন্তলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। সিবিআই সূত্রে খবর, ৯০০ জনের চাকরির বরাত এসেছিল কুন্তলের কাছ থেকে। প্রাইমারি থেকে আপার প্রাইমারি সব ধরনের প্রার্থীই আসতেন কুন্তলের কাছে। সেই তালিকা পরে চলে যেত বিধায়ক জীবনকৃষ্ণের কাছে। জীবনের দুর্নীতির বহর দেখে মনে হচ্ছে পার্থ-কুন্তলরা চুনোপুটি।
নিয়োগ দুর্নীতিতে বিভাসের নাম উঠে আসার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থর যোগ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বিভাসের মাথায় ছিল পার্থর হাত। সেকারণেই দুর্নীতিতে সহজে প্রভাব খাটিয়েছিলেন তিনি। তবে শুধুমাত্র চাকরি বিক্রি নয়, আশ্রমের আড়ালে কুকীর্তি থেকে শুরু করে, জোর করে জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাসের বিরুদ্ধে।
জীবনকৃষ্ণের বাড়ি থেকে এসএলএসটি চাকরি প্রার্থীদের একাধিক নথি। একইসঙ্গে তাঁর কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও নোটপ্যাড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেখান থেকেই নিয়োগ দুর্নীতির বিরাট তথ্য উঠে আসতে পারে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে তথ্যে পাহাড় মিলতেই ঘুম উড়েছে তৃণমূলের। অনেকেই মনে করছেন, জীবনকৃষ্ণকে গ্রেফতার শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।