বাজেটেই রাস্তাশ্রী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি রেখেই মঙ্গলবার সিঙ্গুর থেকে রাস্তাশ্রী প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর-২ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েতের রতনপুর নেতাজি সঙ্ঘ থেকে আথালিয়া নবোদয় সঙ্ঘ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর থেকে নিজের হাতে রাস্তাশ্রীর সুচনা করলেন মমতা।
দীর্ঘ দিন ধরে নিভে থাকা সিঙ্গুরের আগুন ফের জ্বলতে শুরু করে। মমতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সোচ্চার হয় সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বৃহস্পতিবার ফের একই মন্তব্য করতে দেখা গেল তৃণমূল সুপ্রিমোকে। তিনি বলেন, টাটারা আমাদের হারাতে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল।
মমতার সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। মমতার মন্তব্যের বিরোধিতায় সরব হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। এবার সরব হলেন তাঁর একসময়ের সতীর্থ সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। আন্দোলনের প্রবল রূপের কারণেই সিঙ্গুর ছেড়েছিল টাটা, দাবি মাস্টারমশাইয়ের।
কিন্তু মমতার দীর্ঘ আন্দোলনের জমি এই মুহুর্তে বন্ধাত্ব জমিতে পরিণত হয়েছে। তাতে মুখ্যমন্ত্রী সর্ষে ছড়ালেও হয়নি চাষ। সময় বদলে এখন শিল্পের পক্ষেই কথা বলছে সিঙ্গুরের আমজনতা।
শিলিগুড়ির কাওয়াখালি মাঠে বিজয়া সম্মিলনী থেকে বললেন, টাটাকে আমি তাড়াইনি, সিপিএম তাড়িয়েছে। ওরা জোর করে জমি নিয়েছিল। আমি সেই জমি ফেরত দিয়েছি। হঠাৎ করে ১৪ বছর পর এধরনের কথা কেন বললেন মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
শনিবার সিঙ্গুরে অনুষ্ঠানে যোগদান করে কর্মসংস্থান নিয়ে মন্তব্য করলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। সেখানেই তিনি উল্লেখ্য করেন, কেয়া শেঠকে বলব সিঙ্গুরে একটা কারখানা করতে। মন্ত্রী বেচারাম মান্নার সঙ্গে কথা বলে কারখানা করুন। মানুষকে কাজ দিন। আমরা সব রকম সাহায্য করব।
সিলেবাসে সিঙ্গুর থাকলেও কেন নেই নন্দীগ্রাম? এই প্রশ্ন তুলে ২০১৭ সালে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলা সোমবার খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট।