নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমি নয়, সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়িয়ে সিপিএম। গতকাল শিলিগুড়ির এক সভা থেকে এমনটাই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। মমতার মন্তব্যের বিরোধিতায় সরব হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। এবার সরব হলেন তাঁর একসময়ের সতীর্থ সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। আন্দোলনের প্রবল রূপের কারণেই সিঙ্গুর ছেড়েছিল টাটা, দাবি মাস্টারমশাইয়ের।
আরও পড়ুনঃ SSC-TET Scam: আগামী মাসেই কর্মহারা হচ্ছেন হাজারো শিক্ষক, তৈরি হচ্ছে তালিকা


সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়কের কথায়, একমাত্র সিপিএমের জন্যই টাটারা সিঙ্গুর ছেড়ে চলে গেছে সেটা মনে করি না। সিঙ্গুর আন্দোলনকারী গ্রুপে আমরা যারা ছিলেন। যার নেতৃত্বে মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন, তাঁদের যৌথ আন্দোলনেই আরও বিভিন্ন দল একসঙ্গে ধর্না মঞ্চ রাস্তার ধারে করে প্রতিবাদ বিক্ষোভ দিনের পর দিন দেখিয়েছেন। মূলত, সেইসব কারণেই টাটারা সিঙ্গুর ছেড়ে চলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, পলিটব্যুরো নতুন করে যে চুক্তি করেছিল, যে শর্ত দিয়েছিল যে পলিটব্যুরোতে এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করে। সেটা কিন্তু রতন টাটার কাছে পৌঁছায়নি। রতন টাটাজি তাঁরা মূলত চলে গেছেন সিঙ্গুর আন্দোলনে বিশেষ করে ধর্নামঞ্চে যখন আন্দোলন প্রবল রূপ নিয়েছিল তারই প্রেক্ষাপটে রতন টাটাজি ঘোষণা করেছিলেন যে সিঙ্গুরে আমরা ন্যানো কারখানা করব না।
উল্লেখ্য, সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা পেয়েছিলেন। তেমনই জনপ্রিয় ছিলেন মাস্টারমশাই। সিঙ্গুরের আন্দোলন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে বিধায়ক পদে নির্বাচিত করে। কিন্তু গতবার তৃণমূলের বয়সের নিয়মের কারণে টিকিট পাননি রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। পরে তিনি বিজেপির টিকিটে লড়াই করে প্রাজিত হয়েছিলেন বেচারাম মান্নার কাছে। এখন রাজনীতি থেকে দূরে সরে ফের মুখ খুললেন।


গতকাল শিলিগুড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, টাটাকে আমি তাড়াইনি, সিপিএম তাড়িয়েছে। ওরা জোর করে জমি নিয়েছিল। আমি সেই জমি ফেরত দিয়েছি। হঠাৎ ১৪ বছর পর এধরনের কথা কেন বললেন মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘ ২২ বছর পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলের হটকেক।
আন্দোলনের প্রবল রূপের কারণেই সিঙ্গুর ছেড়েছিল টাটা, প্রাক্তন বিধায়কের মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সাল থেকেই সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে সুর চড়াতে শুরু করেছিল তৃণমূল। তারপর সিঙ্গুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমে উত্তপ্ত হতে শুরু করে রাজ্য রাজনীতি। তখন জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অনশনে শামিল হয়েছিল বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার জেরেই টাটা সিঙ্গুর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া সিঙ্গুর জুড়ে।







