আজ রাজভবনে যাচ্ছেন দিব্যেন্দু অধিকারী। জল্পনা চলছে, লোকসভা ভোটের (Loksabha Election) আগে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিতে পারেন তিনি। তার আগে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ জল্পনাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
প্রায় একই রকম সুর আরেক বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের কথাতেও। তিনি বলেছিলেন এই সরকারের কোন ভরসা নেই পদ্মপাতার জলের মতো এই আছে এই নেই। তাই এবার শান্তনু ঠাকুরের কর্তব্য সঙ্গে মিলে যাই। তবে বাস্তবে কি হবে বলবে সময়।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগর। অভিষেকের আসার আগেই বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের প্রতিবাদের জেরে রণক্ষেত্র আকার ধারন করে মতুয়াধাম। একের অপরকে বিঁধে নানান আক্রমণ শানিয়েছেন দুই সাংসদই। এখানেই শেষ নয়, এই অশান্তির জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেও। আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন শান্তনু ঠাকুর।
গত সপ্তাহে ঠাকুরনগরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আদালতে শান্তনু ঠাকুরের অভিযোগ, অভিষেক কাউকে না জানিয়ে মতুয়া মহা সঙ্ঘের মন্দিরের সামনে মিছিল করেন। তৃণমূলের দলবল নিয়ে মন্দিরে ভিড় করেন। এমনকি ভক্তদের অভিষেকের সমর্থক ও লোকেরা হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ। এনিয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি বিজেপি সাংসদের।
একদিকে শান্তনুপন্থী মতুয়া, আর অন্যদিকে মমতাবালাপন্থী মতুয়াদের মধ্যে হাতাহাতি চরমে ওঠে। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের হেনস্তা, জুতো পড়ে মন্দিরে প্রবেশ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ ওঠে। তারপরেই তৃণমূল-বিজেপির হাতাহাতিতে জখম হন বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ আটজনকেও গ্রেফতার কর। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৪ এর নির্বাচনের দিকে এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, চলতি মাসেই বড়সড় রদবদল করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাজেট অধিবেশনের আগেই এই বদলের সম্ভাবনা মাথাচাড়া দিয়েছে। ২৪ আগে মোদি মন্ত্রীসভায় রদবদলে বাংলা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় কেউ জায়গা হারাতে পারেন? এই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে।
গুজরাতের পর বাংলাতেও লাগু হবে সিএএ। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই হাওয়া তুলেই বাজিমাত করতে চাইছে বিজেপি। কারণ, রাজ্যের মতুয়া সম্প্রদায়ের কথা মাথায় রেখে সিএএ লাগু করা জরুরী বলেই মনে করছেন রাজ্য নেতৃত্ব। তাই ঠাকুরনগরেই মতুয়া মহাসমাজের বিরাট সমাবেশ -এর আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে থাকছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।