নজরবন্দি ব্যুরো: রবিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল ঠাকুরনগর! তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’ কর্মসূচী ঘিরেই সকাল থেকেই বিক্ষোভ দেখা দিতে থাকে। আর সেই বিক্ষোভের মাঝেই রবিবার দুপুরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছান অভিষেক। কিন্তু ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছালেও মূল মন্দিরে ঢুকতে পারেননি তিনি। গতকালের এই ঘটনা ঘিরে তপ্ত রাজ্য রাজনীতির পারদ।


একদিকে শান্তনুপন্থী মতুয়া, আর অন্যদিকে মমতাবালাপন্থী মতুয়াদের মধ্যে হাতাহাতি চরমে ওঠে। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের হেনস্তা, জুতো পড়ে মন্দিরে প্রবেশ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ ওঠে। তারপরেই তৃণমূল-বিজেপির হাতাহাতিতে জখম হন বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ আটজনকেও গ্রেফতার কর। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এহেন পরিস্থিতিতে গতকালের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। শান্তনু ঠাকুরের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ একাধিকের মদতে পুলিশ অনৈতিকভাবে মারধর করে নির্দোষকে গ্রেফতার করেছে। এমনকি মন্দিরের পূজারিকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে মন্দিরের দখল নেওয়া চেষ্টা করা হয়েছে। যা রীতিমত অপ্রত্যাশিত, অন্যায়।

অন্যদিকে, সোমবার দুপুরে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতাবালা ঠাকুর জানান, এতবছরের ইতিহাসে এমন দৃশ্য দেখেননি তিনি। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শান্তনুকে নিশানা করে পাল্টা বিস্ফোরক মন্তব্য করে মমতাবালা বলেন, “মন্দিরে সকলের অধিকার। এটা দেবোত্তর করে গিয়েছেন আমার শাশুড়ি। অথচ রবিবার গাঁজা খাওয়া হয়েছে ঠাকুরবাড়ি চত্বরে। কুলাঙ্গার না হলে এসব করতে পারে। কোন সভ্য জগতে এসব হয়?”



উল্লেখ্য, রবিবার সকাল থেকেই শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে ঠাকুরবাড়িতে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিজেপি সাংসদের কথায়, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সাধারণ সাংসদ। তাঁর আগমনের জন্য যে প্রস্তুতি হচ্ছে তা প্রধানমন্ত্রী আসার সময়েও হয় না।” এদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, মতুয়া ভক্তরা কালো পতাকা নিয়ে মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। মন্দিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তৃণমূল সমর্থকদের বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এই বিক্ষোভের মধ্যেই ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছে প্রকাশ্যে শান্তনু ঠাকুরকে নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। আজ আমি এসেছি পুজো দিতে। আমি শান্তনু ঠাকুরকে চ্যালেঞ্জ করছি, এখানে এসে বলুন কোন রাস্তা, কোন কল বাকি রয়েছে। আমি নিজের করে দেব। উনি বলেছেন, আমি চলে যাওয়ার পর ঠাকুরবাড়ি গোবর জল দিয়ে ধোব। আমি তিন মাস অন্তর আসব। তুমি পরিষ্কার করো। আমি আবার আসব। তোমার দম থাকলে আটকিও।”
ঠাকুরনগর কাণ্ডে সিবিআই তদন্তে দাবি শান্তনুর, পাল্টা তোপ মমতার








