নজরবন্দি ব্যুরো: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগর। অভিষেকের আসার আগেই বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের প্রতিবাদের জেরে রণক্ষেত্র আকার ধারন করে মতুয়াধাম। একের অপরকে বিঁধে নানান আক্রমণ শানিয়েছেন দুই সাংসদই। এখানেই শেষ নয়, এই অশান্তির জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেও। আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন শান্তনু ঠাকুর।
আরও পড়ুন: সংখ্যাগুরু বুথেও প্রার্থী নেই! বঙ্গ বিজেপিকে তলব ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর!


এবার ঠাকুরবাড়ির অশান্তিকাণ্ডে সিট গঠনের নির্দেশ দিলেন কলকাতা আদালত। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে এই নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। এদিন আদালতের বিচারপতি নির্দেশ দিয়ে জানান যে, ঠাকুরবাড়ির অশান্তিকাণ্ডে মামলকারীর অভিযোগ এফআইআর হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। আর এই মামলায় এডিজি পদমর্যাদার কোনও অফিসারকে এই তদন্তের দায়িত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি এই মামলায় যে সব ভক্তদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, তাঁদের জামিন দিতে হবে। তবে গ্রেফতার হওয়া ভক্তদের মুক্তির পড়ে তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে সপ্তাহে দু’দিন দু ঘণ্টার জন্য দেখা করবেন। একইসঙ্গে ভক্তদের জেলা না ছাড়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি।

ঠাকুরনগরে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আদালতে শান্তনু ঠাকুরের অভিযোগ, অভিষেক কাউকে না জানিয়ে মতুয়া মহা সঙ্ঘের মন্দিরের সামনে মিছিল করেন। তৃণমূলের দলবল নিয়ে মন্দিরে ভিড় করেন। এমনকি ভক্তদের অভিষেকের সমর্থক ও লোকেরা হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ। ওইদিনের ঘটনায় পুলিশের তরফে মন্দির কমিটি সহ ভক্তদের বিরুদ্ধে পাঁচটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন একাধিক ভক্তজন। এনিয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি বিজেপি সাংসদের।
এরপরেই সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।



উল্লেখ্য, ঠাকুরনগরের মতুয়াধামে পুজো দেওয়ার কথা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সকাল থেকেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা মন্দির চত্বর সাজানো শুরু করেন। কিন্তু দুপুরের পর থেকেই মতুয়াদের একাংশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য তৈরি তোরণ ভেঙে ফেলা হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে গেলে মূল মন্দিরের ফটক বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরফলে বিকেলে ঠাকুরনগর এসে মূল মন্দিরে যেতে পারেননি অভিষেক। পাশের মন্দিরেই পুজো দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে শান্তনু ঠাকুরকে আক্রমণ করে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেছিলেন, “মতুয়াধাম কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আমি তিন মাস পর আবার আসব। পারলে আটকান।”
Abhishek-র সভা ঘিরে ঠাকুরবাড়ির অশান্তিকাণ্ড, সিট গঠনের নির্দেশ








