রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে আলোচনায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ। ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর প্রশ্ন উঠছে—দীর্ঘদিন আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা কি এবার পুরোপুরি পেতে চলেছেন রাজ্যবাসী?
তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বের কারণে একাধিক প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে টানাপোড়েন ছিল। এবার সেই জট কাটতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকেই। যদিও প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে সময়ের সঙ্গে, তবু সম্ভাব্য কিছু বড় প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।


আয়ুষ্মান ভারত
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটি চালু হলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই বাংলায় এই প্রকল্প চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY)
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-র কাজ বাংলায় অনেকটাই এগোলেও দুর্নীতির অভিযোগে গতি থমকে গিয়েছিল। নতুন সরকার এলে গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় আবাসন প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুত এগোতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা
প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা চালু হলে বাংলার মৎস্যজীবীরা আর্থিক সহায়তা, বিমা এবং আধুনিক সরঞ্জামের সুবিধা পেতে পারেন। উপকূলবর্তী ও নদীভিত্তিক অর্থনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।


জল জীবন মিশন
জল জীবন মিশন-এর আওতায় গ্রামীণ এলাকায় ঘরে ঘরে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই বহু পরিবার এই সুবিধা পেলেও, বাকি অংশ দ্রুত সম্পূর্ণ করার দিকে জোর দেওয়া হতে পারে।
পিএম শ্রী স্কুল
পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক পরিকাঠামো ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলায় এই প্রকল্প চালু হলে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিশা মিলতে পারে।
পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা
পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা-র মাধ্যমে কারিগর, তাঁতি, কুমোর, কামারদের মতো ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন যদি দ্রুত হয়, তবে স্বাস্থ্য, আবাসন, শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাস্তব ফল কতটা মিলবে, সেটাই এখন দেখার।







