উত্তম সর্দারকে গ্রেফতার করা হলেও শেহজাহান ও শিবু এখনও নিখোঁজ। সন্দেশখালিকাণ্ডে জল অনেকদূর গড়িয়েছে। এর প্রতিবাদে সারা রাজ্যে ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করেছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি (BJP)।
তাঁদের জামায় লেখা ছিল, 'সন্দেশখালির পাশে আছি'। এই পাঞ্জাবি গায়ে বিধানসভায় প্রবেশের সময় তাঁদের বারণ করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা সে কথা শোনেন না। এরপর অধিবেশনের শুরু থেকেই বিজেপি বিধায়কেরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন, হুইসল বাজান। তীব্র অরাজকতা সৃষ্টি হওয়ার ৬ জন বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করলেন স্পিকার।
৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে শাহজাহান শেখের (Seikh Shahjahan) অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত হতে হয় ইডি আধিকারিকদের। শিরোনামে আসে সন্দেশখালি। তখনও কে জানত কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কত কেউটে বেরোবে! এই মুহূর্তে উত্তাল সন্দেশখালি। শাহজাহান সহ দুই তৃণমূল নেতা উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন গ্রামের মহিলারা।
নারীদের ওপর অত্যাচার করত। ঘরের মেয়েদের টেনে নিয়ে যেত। রাত ১২ টা ১ টার কোন ঠিক নেই। মেয়েরা না গেলে, পুরুষদের তুলে নিয়ে যেত। শেখ শাহজাহানের দুই অনুগামীরা এরকম করত। এরকম নারী নির্যাতন যেন না হয়। আমরা শান্তি চাই।
গতকালই এক বিজেপি নেতাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এবার এই ঘটনায় নাম জড়াল সিপিএমের। নিখোঁজ শিবু হাজরার অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার গ্রেফতার করা হল প্রাক্তন বাম বিধায়ক নিরাপদ সরকারকে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিডিও-পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিবু হাজরা এবং উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা হয়নি।
সন্দেশখালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) চিঠি পাঠান বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাট সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি সন্দেশখালির ঘটনায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ দাবি করেন।