বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই অশান্ত হয়ে উঠেছে সন্দেশখালি। বুধবার থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছেন। এলাকার তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য উত্তম সর্দার সাধারণ মানুষের হাতে আক্রান্ত হয়েছে। এর জেরে গোটা সন্দেশখালিতে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। সন্দেশখালি ১ ও ২ এলাকার মোট ১৬ টি পঞ্চায়েত জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন : সন্দেশখালিকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, উদ্বেগ জানিয়ে শাহকে চিঠি সুকান্তর
লাগাতার ২ – ৩ দিন ধরে অশান্ত হয়ে রয়েছে সন্দেশখালি। এর মধ্যে কড়া সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। সামনের সারিতে শুধু মহিলারা রয়েছেন। কয়েকজনের বাড়িতে ও পোলট্রি ফার্মে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে আগুন। অশান্তি যেন কমছেই না সন্দেশখালিতে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হচ্ছে, আগামী নোটিশ জারি না করা পর্যন্ত ১৪৪ ধারাই জারি থাকবে। তার সাথে ভুয়ো খবর যাতে না ছড়ায় তার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

পলাতক তৃণমূলের শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ শিবু হাজরা ও উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে মুলত এই অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। কোনক্রমে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে বাসিন্দাদের সংঘর্ষ আটকেছে পুলিশ। এরপর সন্দেশখালির জেলিয়াখালি দ্বীপেও এই দুই শাহজাহান ঘনিষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে চলে যায় পুলিশের। এরপর পাল্টা আক্রমণ করেন শিবু হাজরার অনুগামীরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ আধিকারিক জানান, পুলিশের সামনেই তারা মহিলা বিক্ষোভকারীদের মারধর করা হয়েছে।

সন্দেশখালিতে জারি ১৪৪ ধারা, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা
উল্লেখ্য বিঘের পর বিঘে জমি দখল করে মাছের ভেড়ি করেছে, মুরগির ফার্ম করেছে শিবু হাজরা। জমি ফেরতে চাইতে গেলে তারা মারধর করে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিডিও-পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিবু হাজরা এবং উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার মধ্যে ৩ জন গ্রামবাসী। এদিকে সন্দেশখালি নিয়ে শাসক – বিরোধী দুই শিবিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা।



