বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই প্রেসিডেন্সি জেলে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়লেন রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। জেল সূত্রে খবর, তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর তড়িঘড়ি জেলেই শুরু হয় চিকিৎসা। দেওয়া হয় অক্সিজেন সাপোর্ট। এরপর ধীরে ধীরে সুস্থ বোধ করেন তিনি। এই মুহূর্তে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে বৃহস্পতিবার সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে পারেননি রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই কারণে এদিন তাঁকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির করানো হয় আদালতে। সেখানে বালু কাতর আর্জি জানান, "আমাকে বাঁচতে দিন!" যদিও বৃহস্পতিবার জামিনের আবেদন করেননি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আইনজীবী।
নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পাশাপাশি শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলেও জানিয়েছেন। এখন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মৃত্যু আশঙ্কা করছেন মন্ত্রী। রবিবার সাংবাদিকদের সামনেই তিনি একথা জানান।
শনিবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়ির পরিচারিকা রামস্বরূপ শর্মাকে সিজিও কমপ্লেক্সে ফের তলব করা হয়েছিল। তিনি কৃষি দফতরের অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মী বটেও। এদিন ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন রামস্বরূপ। কোনওদিন তাঁর 'সাহেব'কে দিয়ে সাদা কাগজে কোনও সই কি করানো হয়েছিল? এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অনেকদিন আগে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম করে কয়েকজন তাঁকে সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়েছিলেন।
গত বছর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির ছয় দিনের মাথায় তাঁকে মন্ত্রিত্ব সহ দলের সমস্ত পদ থেকে অপসারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো। দুজনের ক্ষেত্রে কেন এই পার্থক্য? জানালেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে মন্ত্রিসভায় রেখেই তাঁর দফতরের দায়িত্ব অন্য কাউকে দেওয়া হতে পারে। তবে কাকে দেওয়া হতে পারে এই দায়িত্ব? অনেকেই আবার মনে করছেন, বালুর দফতর নিজের হাতেই রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।