নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। জরিমানার ৫ লক্ষ টাকা না দেওয়ার কারণে ইডিকে এই নির্দেশ দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। দেশে, বিদেশে মানিকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবেন ইডির আধিকারিকরা।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে দাবি করা হচ্ছে, প্রাইভেট টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ক্লাস না করে, এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও মিলেছে সার্টিফিকেট। পুরো বিষয়টি হয়েছে টাকার বিনিময়ে। এখানেই শেষ নয়, প্র্য়োজনে টাকার বিনিময়ে ২-৩ বছর আগের ব্যাকডেটেও রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।
এদিন আদালতের কাছে মানিক ও কুন্তল সম্পর্কে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরল তদন্তকারী সংস্থা। ওএমআর শিটে সাংকেতিক ষড়যন্ত্র ছিল কুন্তল ও মানিকের। আদালতে দাবি করল ইডি। একইসঙ্গে পার্থ মানিকের যুগলবন্দি টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইডি।
কখনও দাবি করা হয়েছে তাঁর দুটি পাসপোর্ট আবার কখনও তাঁর লন্ডনের বাড়ির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি তাঁর প্রতিবেশীর নাম নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। মঙ্গলবার আদালতেই সেবিষয়ে সরব হলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য নিজেই। জানালেন, আমার সামাজিক সম্মান নষ্ট করা হচ্ছে।
মানিকের জোড়া পাসপোর্ট দেখে বিস্মিত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এটা কী করে সম্ভব? প্রশ্ন বিচারপতির। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মানিকের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এমনটাও দাবি করেছে সিবিআই। অন্যদিকে, জোড়া পাসপোর্ট নিয়ে লন্ডন গেছেন মানিক।
কুন্তল ঘোষের যোগাযোগ রয়েছে আরও ওপরে। শনিবার তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির পর এমনটাই দাবি করলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, টাকা ফেরতের জন্য কুন্তলকে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটা না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল কুন্তল।
কুন্তলের সঙ্গে কোথায় যোগসূত্র পেল তদন্তকারী সংস্থা? ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের সম্পর্কে ইডি যে চার্জশিট দিয়েছিল, সেখানে মিস্টার ঘোষ বলে একজনের নাম উল্লেখ ছিল। সেটা কুন্তল বলেই জানা গেছে। মানিকের চার্জশিটে ছিল কুন্তলের নাম থাকতেই তাঁকে তলব করা হয়েছে।