পর পর বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় ওই নদীতে পেল্লাই সাইজের ইলিশ ধরা পড়তেই খুশিতে চোখমুখ ঝলমল করছে মৎস্যজীবী থেকে সাধারণ মানুষের। প্রশ্ন উঠছে, কেন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বড় ফেনী নদীতে ইদানীং বেশি বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে?
কলকাতার বাজারে মুম্বাই বা ঊড়িষ্যা থেকে যে ইলিশ আসছে তা বিকোচ্ছে ৬০০ টাকায় যদিও সেই মাছের সাইজ ৪০০ গ্রামের নিচে। আর যে মাছের সাইজ ৬০০-৭০০ গ্রামের মধ্যেই সেই মাছ বিকোচ্ছে ৮০০ টাকায়। ১ কেজির উপরে হলে দাম প্রায় ১৪০০ টাকা।
গত এক সপ্তাহে ৮০ টন ইলিশ উঠেছে দিঘায়। মৎস্যজীবীরা তাতে দারুণ খুশি। জানা গেছে গত রবিবার শুধু একদিনেই জালে উঠেছে ২৫ টন ইলিশ মাছ। তাছাড়া কোনও দিন ৫ টন, কোনও দিন ১০ টন করে ইলিশ তো উঠছেই। চলতি মরসুমে যা সর্বাধিক।
বর্ষা ঢুকতেই ইলিশের মরসুম শুরু হয়ে গিয়েছে বাঙালির জীবনে। ইতিমধ্যেই সারি সারি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে রওনা দিয়েছে ইলিশ ধরার জন্য। বিভিন্ন বাজারেও উঠতে শুরু করেছে সুস্বাদু এই মাছ। কিন্তু কিছু ইলিশমাছে স্বাদ কেন অন্যরকম হয় সেই বিষয়েও বিস্তারিত জানা দরকার।
নদীর ইলিশ একটু বেঁটেখাটো হবে, আর সাগরের ইলিশ হবে সরু ও লম্বা। নদীর ইলিশ বিশেষ করে বাংলাদেশের পদ্মা ও মেঘনা নদীর ইলিশ একটু বেশি উজ্জ্বল হয়। মাছের গায়ের রং হবে বেশি রুপালি, চকচকে। পদ্মার ইলিশের সাইজ তুলনামূলকভাবে বড় হয়। চোখের কাছে দেখলে মনে হবে একটু বেশিই লাল!
উল্লেখ্য, ৩০ এপ্রিল ইলিশ ধরার উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে। পটুয়াখালীর মহিপুর, বরগুনার পাথরঘাটার মৎস্যজীবীদের একাংশের আক্ষেপ, এই বছর তাঁরা পর্যাপ্ত ইলিশ পাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে তাঁরা জানাচ্ছেন, এই বছর নদী থেকে সাগরে স্বাদু জল কম প্রবেশ করেছে।
১ থেকে দেড় কেজি সাইজের ইলিশ মিলবে ১২০০ টাকায়। ৮০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ কিনতে পারবেন ৮০০ টাকাতেই। তবে দেড় কেজির ওপরে মাছের ওজন হলে দাম হবে ১৮০০ টাকার কাছাকাছি। এখন দেখার ভাইফোঁটায় জমিয়ে ইলিশ খেতে পারে কিনা এপার বাংলা।