দিল্লির লোকনায়ক (এলএনজেপি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সত্যেন্দ্র জৈন। রবিবার সেখানেই যান আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দুজনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথা বার্তা চলে। এদিনের সাক্ষাতের কয়েকটি ফটো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন কেজরিওয়াল। ক্যাপশনে লিখেছেন, 'Met the brave man…..the hero..'। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রাক্তন মন্ত্রীর মাথায় ব্যান্ডেজ রয়েছে। এছাড়াও তাঁর বা হাতে চোট রয়েছে। সূত্রে খবর, মাথায় চোট পাওয়ার কারণে সত্যেন্দ্র জৈনের রক্তে জমাট বেঁধেছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এদিন দুপুরেই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন আপ সুপ্রিমো। সাংবাদিক বৈঠকে কে চন্দ্রশেখর রাও বলেন, "কেন্দ্র অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে কাজ করতে দিচ্ছে না। দিল্লিতে আপ একটি জনপ্রিয় দল। পুরসভার ভোটেও জয়লাভ করেছে। বিজেপি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে যার ফলে দিল্লির সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।"
বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্যমন্ত্রী এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নররা উপস্থিত থাকবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং নীতি আয়োগের ভাইস-চেয়ারম্যান পদাধিকারী সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য সদস্যরাও বৈঠকে থাকবেন। তবে উপস্থিত থাকছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, নীতীশ কুমার, অশোক গেহলট, কে চন্দ্রশেখর রাও, ভগবন্ত নাম, পিনারাই বিজয়ন। কেন্দ্রের সঙ্গে বিরোধিতার জেরেই এই বৈঠকের ডাক বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লির আমলাদের উপর কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় বিভিন্ন রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রীদের সমর্থন আদায় করতে বেরিয়ে পড়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে দেখা করার পর তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন কেজরিওয়াল। বৈঠকের উদ্দেশে হায়দরাবাদ যাচ্ছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে বয়কট করলেন নীতি আয়োগের বৈঠক। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পাশাপাশি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানও এই বৈঠকে যোগ দেবেন না। মোদীকে দেওয়া চিঠিতে আপ সুপ্রিমো জানিয়েছেন, দিল্লির আমলাদের নিয়োগ এবং বদলি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রের জারি করা অধ্যাদেশের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ।
গত মঙ্গলবার কলকাতা সফরে এসেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। নবান্নে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। নবান্নে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। বৈঠক শেষে কেজরিওয়ালকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মমতা। সেখানেই তিনি বলেন, “একমাত্র সুপ্রিম কোর্ট পারে দেশকে বাঁচাতে।’ পাশাপাশি সকল বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে কাজ করার আবেদন জানান তিনি।
সত্যেন্দ্র জৈনের অসুস্থতার খবর পেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আম আদমি পার্টির নেতারা। দলের একাংশের অভিযোগ, তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। দিল্লির স্বাস্থ্য এবং কারামন্ত্রী ছিলেন সত্যেন্দ্র জৈন। আর্থিক তছরূপ কাণ্ডে গত মে মাসে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। কেজরিওয়াল সরকারের আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া বর্তমানে তিহাড় জেলে বন্দি।