তবে, অধীররঞ্জন চৌধুরী ও মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের দাবি—এই আন্দোলন সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয়তা ও দাবির প্রতিফলন। তাদের লক্ষ্য একটাই, রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে মানুষের জন্য ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
পদ কেড়ে নেওয়ার পরে অধীর রঞ্জন চৌধুরী নাকি বেশ কিছুটা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক কংগ্রেস নেতার ফোন তিনি ধরেননি। যদিও তার পরের দিন, আরজি কর ধর্ষণ ও খুন মামলার প্রতিবাদে কলকাতায় কংগ্রেসের মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে দেখা যায় অধীরকে।
অধীরের বদলে শুভঙ্করকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করে সনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেরা জোড়া বার্তা দিতে চাইলেন। এক, এক অতিরিক্ত তৃণমূল বিরোধিতা চলবে না। দুই, সিপিআইএমের সঙ্গে এই গাঁটছড়ার নিট ফল শূন্য।
তিনি কতটা এই পদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কতটা সংগঠনকে মজবুত করতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্নটা থেকেই গিয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভঙ্কর দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
তৃণমূলের সঙ্গে একই পথে চলতে নারাজ দুই শতাব্দী প্রাচীন দল। একই অবস্থান রাজ্যের শাসক দলেরও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে দু'টি আসন 'অফার' করলেও বামেদের সঙ্গে 'আপোষ' করতে সরাসরি 'না' বলে দেন। যুক্তি ছিল, ৩৪ বছরের যে অপশাসনের পতন হয়েছে তাঁর হাত ধরে তাঁদের সঙ্গে আবার ঐক্যতা কিসের!
অধীর তৃণমূলের যেরকম বিরোধী, সেরকমই বিজেপি বিরোধী বলে পরিচিত। বিজেপির দিক থেকে এই মুহূর্তে রাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে অধীরকে প্রয়োজন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছেন, বিভীষণের বাড়ি (কংগ্রেস) ছেড়ে রামের (বিজেপি) বাড়িতে আসার।