এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় জল্পনা, কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিজেপিতে যোগ দিতে পারে। রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। কী হবে, কী হবে না, তা তো সময়ই বলবে। কিন্তু, অধীর যদি বিজেপিতে যোগ দেন তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্য রাজনীতির চিত্রটা অনেকটাই যে বদলে যাবে টা বলাই বাহুল্য। সেখানে কী কী সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে?
একুশের বিধানসভা থেকেই হাতে হাত ধরে চলে আসছে বাম-কংগ্রেস। সেই তিন বছর আগেও এই জোট করে বামেদের ভাগ্যে একটি আসনও জোটেনি। বরং মধ্যিখান থেকে একুশের বিধানসভায় একমাত্র যে আসনটি জোট পায় তা তৃতীয় জোট শরিক আইএসএফ-এর সৌজন্যে। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেও এই জোট থেকে সরে আসে আইএসএফ। কিন্তু, বাম ও কংগ্রেস হারিয়ে একসঙ্গে লড়ে। একেবারে পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রের একেবারে মধ্যস্থল থেকে তৃণমূলকে হারানোর শপথ নিয়ে ব্যাপক হইচই ফেলে পাশাপাশি দুই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। কিন্তু, নিট ফল শূন্য। কংগ্রেস যদিও মালদহ দক্ষিণ জেতে।


সেলিম টানা হেরে আসছিলেন, আর এই প্রথমবারের জন্য গদিচ্যুত হলেন বহরমপুরের টাইগার অধীর চৌধুরী। অন্যদিকে, গোটা দেশের পরিপ্রেক্ষিতে যে ‘ইন্ডিয়া’ জোট তৈরি হল, তা বাংলায় বাস্তবায়িত হল না। কারণ তৃণমূলের সঙ্গে একই পথে চলতে নারাজ দুই শতাব্দী প্রাচীন দল। একই অবস্থান রাজ্যের শাসক দলেরও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে দু’টি আসন ‘অফার’ করলেও বামেদের সঙ্গে ‘আপোষ’ করতে সরাসরি ‘না’ বলে দেন। যুক্তি ছিল, ৩৪ বছরের যে অপশাসনের পতন হয়েছে তাঁর হাত ধরে তাঁদের সঙ্গে আবার ঐক্যতা কিসের!
এবার এই মুহূর্তে অধীর চৌধুরী যদি বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণে আগামী কয়েক মাসে ব্যাপক বদল আসতে চলেছে। কারণ এই অধীর চৌধুরী, যিনি বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে ঐক্যবদ্ধ হতে রাজি ছিলেন না। সাম্প্রতিক অতীত দেখলে বোঝা যায়, অধীর চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন কড়া সমালোচক। এবং, রাজ্যে কংগ্রেসকে ‘টিকিয়ে’ রাখার স্বার্থে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও রকম বোঝাপড়াতেই তিনি আসতে চান না। যে কারণে গোটা দেশে তৃণমূল ও কংগ্রেস ‘ইন্ডিয়া’ জোটে একসঙ্গে ‘ফাইট’ করলেও রাজ্যে তা সম্ভব হয়নি।
কিন্তু এই মুহূর্তে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি মন্তব্য করেছেন যা নিয়ে রীতিমতো হইচই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে অধীর চৌধুরীর বিদায়ের পরে কংগ্রেস যদি তৃণমূলের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে চায়, তাতেও আপত্তি নেই তাঁর। তিনি বলেছেন, “ত্রিপুরা হোক বা গোয়া, আমরা এমন জায়গায় দলের সম্প্রসারণ করতে গিয়েছি যেখানে বিজেপি শক্তিশালী, কংগ্রেস নয়। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক দিন আগেই সূত্র দিয়েছিলেন, যে বিরোধী দল যে রাজ্যে শক্তিশালী, তার পিছনে দাঁড়াক অন্যান্য বিরোধী দলেরা। সেই হিসাবে আমরা কোনও রাজ্যে গিয়ে কংগ্রেসকে দুর্বল করার কথা ভাবিনি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আমাদের জোট প্রস্তাব কংগ্রেসের মানা উচিত ছিল।”


ফলে আগামী দিনে যদি রাজ্যে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মধ্যে জোট সম্ভব হয়, তাহলে বামেদের অবস্থানটা ঠিক কি হবে? মহম্মদ সেলিম কি ‘একলা চলো রে’ এই মতবাদকে মেনে নিয়েই ২০২৬ বিধানসভার প্রস্তুতি শুরু করবেন? নাকি এই মুহূর্তে জোট থেকে বিচ্যুত আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকীকে ফের একবার ‘জোরাজুরি’ করবেন। কারণ, একলা চলো নীতি থেকে বামেরা এখন অনেকটাই দূরে। এই লোকসভায় বামেরা একটি আসন না পেলেও রানীনগর বিধানসভাটি জিতেছিল তাঁরা। এখন আগামী দিনে বামেদের রাজনীতি ঠিক কোন পথে বাঁক নেয় তা একমাত্র বলবে সময়।







