অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বাংলা তো বটেই, দেশের রাজনীতিতেও অত্যন্ত পরিচিত এক মুখ। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন, পাঁচ বারের সাংসদ। এবারের লোকসভায় হেরে গেলেও এখনও জনপ্রিয়তা যে একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে তা বললে বোধহয় ভুল হবে। কিন্তু, ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা প্রশ্ন তো উঠছে!
কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সঙ্গে লাগাতার মতানৈক্য এবং বাংলায় বিরোধী রাজনীতির ধারক ও বাহক হিসাবে নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবার ক্ষেত্রে বহরমপুরের টাইগার আগামী দিনে কী সিদ্ধান্ত নেন তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় যে গুঞ্জন, বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন অধীর! কারণ, তাঁর সঙ্গে নাকি বিজেপির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও প্রকাশ্যে সে কথা বলেছেন।


অধীর ঘোরতরভাবে তৃণমূল বিরোধী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘খুল্লামখুল্লা’ সমালোচনা তিনি করে থাকেন। কিন্তু, সেখানে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের থেকে যে পরিমাণ সহযোগিতা প্রয়োজন তা মেলে না। কারণ, কংগ্রেস, তৃণমূল সকলেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অংশ। আর রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধীদের মমতার প্রতি যে ‘নরমপন্থী’ মনোভাব তাতে অধীরের পক্ষে রাজ্যে কংগ্রেসকে টিকিয়ে রাখাটাই মুশকিল।
আগামী দিনে তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদেও রাখা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি নিজেও বলেছেন, দিল্লি যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে! এই কথার মধ্যে আনুগত্য বা শ্রদ্ধার লেশ কিছুটা কমই ছিল। বিজেপিতে অধীর যেতে পারেন, একটাই কারণে। সেটা হল, তৃণমূল বিরোধিতা, যে কাজে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সেরকম উৎসাহ নেই বললেই চলে। এখানে আবার একটা ‘কিন্তু’ আছে!
অধীর তৃণমূলের যেরকম বিরোধী, সেরকমই বিজেপি বিরোধী বলে পরিচিত। বিজেপির দিক থেকে এই মুহূর্তে রাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে অধীরকে প্রয়োজন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছেন, বিভীষণের বাড়ি (কংগ্রেস) ছেড়ে রামের (বিজেপি) বাড়িতে আসার। অন্যান্য বিজেপির নেতারাও পালে হাওয়া দিচ্ছেন, কংগ্রেস অধীরের সঙ্গে ‘অবিচার’ করেছে।


সেই মুহূর্তে আবার বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ একটা নতুন সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, “অধীরদার সঙ্গে পরিচয় রয়েছে। আমার ওনাকে যেটুকু চিনি, অধীরদা বিজেপিতে যোগ দেবেন না। বরং, তিনি মুর্শিদাবাদ-বহরমপুরের কংগ্রেস কর্মীদের স্বার্থে নতুন দল গড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।”
বুধবারই অধীর সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের লোকদের মারছে, যে কর্মীরা রাতদিন তৃণমূলের হাতে মার খেলো, খাচ্ছে, তাদের জন্য আমরা বলবো না তো কে বলবে? শাসক তৃণমূল আমাদের দল ভাঙছে প্রতিদিন! ওরা তো ‘ইন্ডিয়া’ জোটে সামিল হয়ে আমাদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করেনি! তৃণমূল তো এ রাজ্যের শাসক দল, তারা কি আমাদের কংগ্রেস কর্মীদের কোনোরকম রেহাই দিয়েছে? আজও জেলে বন্দি আমাদের কর্মী, মিথ্যা মামলায় জর্জরিত,আমাদের পার্টি অফিস দখল করেছে, করছে, বিরাম নেই তো!”
সঙ্গে তিনি আরও লিখেছেন, “তাহলে সেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে কীকরে চুপ করব, করলে আমার সেই সহকর্মীদের প্রতি অবিচার অন্যায় করা হবে! আমি পারব না। যে কর্মীরা রাতদিন লড়াই করছে, দলের পতাকা নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করছে তাদের সাথেও দিল্লি কথা বলুক, তাদের মতামতও জানা দরকার। তাদেরকেও দিল্লিতে ডাকা দরকার। আমি আমার সেই সকল সহকর্মীদের সাথে রাস্তায় থাকব, আন্দোলনের পথে, অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে শিখিনি, করবোও না।”







