বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনও থামেনি। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার আবহে এবার **সিলেট**ে অবস্থিত ভারতের সহকারী হাই কমিশন ও ভিসা আবেদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াল মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
কেন বাড়ানো হল নিরাপত্তা
শুক্রবার সকাল থেকেই সিলেটে ভারতের সহকারী হাই কমিশনের দফতর, সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের আবাসন এবং শোভনীঘাট এলাকার ভিসা আবেদন কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, “বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও তৃতীয় পক্ষ যাতে সুযোগ নিয়ে অশান্তি ছড়াতে না পারে, সেই কারণেই বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা।”
বিক্ষোভের রেশ পৌঁছয় সিলেটেও
হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে গণ অধিকার পরিষদ ভারতের উপদূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে। চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাই কমিশনারের বাসভবনের দিকে পাথর ছোড়া হয়। এর প্রভাব পড়ে সিলেটেও—কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে অবস্থানে বসে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী-সমর্থকেরা, ওঠে ভারতবিরোধী স্লোগান।

প্রশাসনের আগাম সতর্কতা
এই পরিস্থিতিতে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে জন্য আগেভাগেই নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি স্থাপনার আশপাশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
দেশজুড়ে ভাঙচুর ও সহিংসতা
হাদির মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাতেই বাংলাদেশের একাধিক শহরে সরকারি ভবন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। আগুন দেওয়া হয় দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর দফতরে। ঢাকার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
শেষকৃত্য ও আল্টিমেটাম
শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পরে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়। একই সঙ্গে, ইনকিলাব মঞ্চ হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ইউনূস সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সদুত্তর না মিললে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সহকারী উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়েছে।



