বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’জনের প্রাণহানির অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নরসিংদী জেলায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে Narsingdi জেলার পলাশ থানা এলাকায়। নিহতের নাম শরৎমণি চক্রবর্তী। নরসিংদীর চরসিন্দুর বাজারে তাঁর একটি মুদি দোকান ছিল। স্থানীয় সময় অনুযায়ী সোমবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ বাজার সংলগ্ন এলাকায় শরতের উপর অতর্কিতে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধারালো অস্ত্র হাতে হামলাকারীরা পিছন দিক থেকে কোপাতে শুরু করে। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কী বলছে পুলিশ
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে Palash Police Station। থানার ওসি শাহেদ আল মামুম জানান, মৃতদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পিছন দিক থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। হত্যার নেপথ্য কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
একের পর এক নৃশংসতার অভিযোগ
এই হত্যাকাণ্ডের আগে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক নৃশংস ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। শরীয়তপুরে খোকন দাস নামে আর এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার পর দেহে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। সোমবার যশোরে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি ও গলা কেটে খুনের অভিযোগও ছড়িয়েছে। ঝিনাইদহে এক বিধবা মহিলাকে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
তরুণ নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি, ভাঙচুর ও তাণ্ডবের খবর মিলেছে। এই আবহে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে India সরকারও। ময়মনসিংহের ঘটনায় বিচারের দাবি জানানো হয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ওই ঘটনাগুলিকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলেই ব্যাখ্যা করেছে।
সব মিলিয়ে নরসিংদীর এই হত্যাকাণ্ড ফের প্রশ্ন তুলছে—বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আদৌ কতটা সুরক্ষিত?



