‘আমরা খুবই চিন্তিত’—বাংলাদেশে হিংসা ও সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ রাষ্ট্রসংঘের

বাংলাদেশে চলতে থাকা হিংসা ও সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল রাষ্ট্রসংঘ। শান্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অশান্তি ও হিংসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও বাড়ছে উদ্বেগ। রাষ্ট্রসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্তোনিও গুতারেস স্পষ্ট জানালেন—এই পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা “খুবই চিন্তিত”। সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ, বিশেষ করে হিন্দু যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে এমনই মন্তব্য করা হয়।

রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে যে হিংসার ছবি সামনে আসছে, তা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়—এটি মানবাধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না হয়, সে জন্য সংযম ও শান্তির পথেই এগোনোর বার্তা দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা রাষ্ট্রসংঘের

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে রাষ্ট্রসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন,
“হ্যাঁ, বাংলাদেশে যে হিংসা আমরা দেখেছি তা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।”

সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন,
“বাংলাদেশ হোক বা বিশ্বের যে কোনও দেশ—যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নন, তাঁদের নিরাপদ অনুভব করা উচিত। একই সঙ্গে সমস্ত বাংলাদেশিরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করি, সরকার প্রত্যেক নাগরিককে সুরক্ষা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিল রাষ্ট্রসংঘ।

মানবাধিকার প্রধানের প্রতিক্রিয়া

এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টার্ক-ও মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, গত বছর বাংলাদেশে বিক্ষোভের নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাদির মৃত্যু হয়।

টার্ক শান্তির আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“প্রতিশোধ বা পাল্টা জবাব কেবল বিভেদ বাড়ায় এবং সকলের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। হাদির মৃত্যু সংক্রান্ত হামলার দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।”

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অনুরোধও জানান।

দীপুচন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ও শোক

বাংলাদেশের নৈরাজ্যের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করে, পরে মৃতদেহে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে পুলিশের সামনেই।

স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত দীপু দাস বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হাসিনা-বিরোধী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির খুনের জেরে গোটা বাংলাদেশে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। সেই নৈরাজ্যের মধ্যেই প্রাণ হারান দীপু দাস।

দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে স্তব্ধ তাঁর স্ত্রী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছে গোটা পরিবার।

কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল

বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে খুন এবং মৃতদেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতায় সাধু-সন্তদের মিছিলও হয়। প্রতিবাদকারীরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।

বাংলাদেশে চলতে থাকা হিংসা, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাষ্ট্রসংঘ শান্তি, সংযম ও নিরপেক্ষ তদন্তের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার দিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত