মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র, ঠিক তখনই ভারতের জন্য এল স্বস্তির বার্তা। Iran স্পষ্ট জানাল—হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই, ‘বন্ধু’ ভারতের স্বার্থ সুরক্ষিতই থাকবে। এই বার্তা শুধু কূটনৈতিক নয়, জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার ভারতের ইরানি দূতাবাস তাদের সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে জানায়, Strait of Hormuz-এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ইরান ও ওমান। পাশাপাশি ভারতের উদ্দেশে বার্তা—“আমাদের ভারতীয় বন্ধুরা নিরাপদ হাতেই রয়েছে, চিন্তার কোনও কারণ নেই।”


কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ?
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন।
- প্রতিদিন প্রায় ২০–২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে যায়
- যা বিশ্বে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ
- উল্লেখযোগ্য পরিমাণ LNG (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)ও এই পথেই পরিবাহিত হয়
এই কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা থাকে।
ভারতকে বিশেষ ছাড়
যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজে চলাচল নিয়ন্ত্রিত, তবুও ইরান জানিয়েছে—বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।


এই তালিকায় রয়েছে—
- ভারত
- চিন
- রাশিয়া
- পাকিস্তান
ফলে ভারতীয় জাহাজগুলির যাতায়াত আপাতত নিরাপদ বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
ভারতীয় জাহাজের আপডেট
সূত্র অনুযায়ী—
- এখনও পর্যন্ত ৮টি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে হরমুজ পার করেছে
- এর মধ্যে BW ELM ও BW TYR নামের দুটি জাহাজ ৯৪ হাজার টন গ্যাস নিয়ে দেশে পৌঁছেছে
- বর্তমানে প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ ওই অঞ্চলে অপেক্ষমাণ
নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক জাহাজ বিকল্প বা ঘুরপথ ব্যবহার করছে, যাতে সহজে শনাক্ত করা যায় এবং ঝুঁকি কমানো যায়।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের আশ্বাস ভারতের জন্য বড় স্বস্তি হলেও, যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
তবে আপাতত জ্বালানি সরবরাহ বজায় থাকায় দেশের সম্ভাব্য গ্যাস সংকট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, হরমুজকে ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগের মাঝেও ভারতের জন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিল ইরান।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



