দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে রাজ্যের পেনশনভোগীদের। বকেয়া ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) নিয়ে জট কাটিয়ে অবশেষে বড় ঘোষণা নবান্নের—২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বকেয়া মেটানো হবে, আর তার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বহুদিনের অনিশ্চয়তার পর এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরতে পারে হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মধ্যে।
বুধবার নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ ও এরিয়ার পরিশোধ করা হবে।
কবে মিলবে টাকা?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী—
- সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের মধ্যে (প্রায় ৬ মাস) বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে
- ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে
কারা পাবেন এই সুবিধা?
- ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া পেনশনভোগীরা
- পারিবারিক পেনশনভোগীরাও (Family Pension) এই সুবিধার আওতায় থাকবেন
- মৃত সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে নমিনিদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে
কীভাবে দেওয়া হবে টাকা?
নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী—
- ট্রেজারি বা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে
- একই পদ্ধতিতে এরিয়ারও পরিশোধ করা হবে
প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু
এই সিদ্ধান্তের আগে অর্থ দপ্তরের নেতৃত্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
উচ্চশিক্ষা, স্কুলশিক্ষা, পুর ও নগরোন্নয়ন, সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা, পরিবহণ এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিটি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—
- কতজন কর্মী ও পেনশনভোগী এই সুবিধা পাবেন
- কত পরিমাণ ডিএ/ডিআর বকেয়া রয়েছে
—এই সমস্ত তথ্য দ্রুত জমা দিতে।
এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ ইতিমধ্যেই একাংশ সরকারি কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। এবার পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক দিক থেকে বড় অগ্রগতি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। এখন নজর—ঘোষণা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব পেনশনভোগীর হাতে টাকা পৌঁছয় কি না।



