দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বকেয়া DA (মহার্ঘ ভাতা) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী বা পারিবারিক পেনশনভোগীর মৃত্যু হলে তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বৈধ উত্তরাধিকারী বা নিকট আত্মীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণা ঘিরে বহু পরিবারে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদান সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে মৃত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের উত্তরাধিকারীদের দ্রুত প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে ট্রেজারি থেকে সংশ্লিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত কর্মী পেনশন গ্রহণ করতেন, সেই ট্রেজারিতেই যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পর বৈধ উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য অর্থ প্রদান করা হবে।
শুধু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীই নন, মৃত পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে বলে অর্থ দপ্তর স্পষ্ট করেছে। ফলে পারিবারিক পেনশন প্রাপকদের উত্তরাধিকারীরাও নির্ধারিত নিয়মে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দাবি করতে পারবেন।
এদিকে, যাঁরা পেনশন কেস অন্য রাজ্য বা বিদেশে স্থানান্তর করেছেন, তাঁদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে বৈধ উত্তরাধিকারী বা নিকট আত্মীয়দের সংশ্লিষ্ট ট্রেজারির হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জেনে নিতে বলা হয়েছে।
অর্থ দপ্তর আরও জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে লাইফ সার্টিফিকেট জমা না দেওয়ার কারণে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা পারিবারিক পেনশনভোগীর পেনশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্যও বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা অনলাইন অথবা অফলাইন— উভয় পদ্ধতিতেই লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে পারবেন।
এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও সহায়তার জন্য একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ০৩৩-২২৫৩-৫৪১৭ নম্বরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
বকেয়া DA ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক ও আইনি লড়াই চলেছে। সেই আবহে মৃত অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও পেনশনভোগীদের উত্তরাধিকারীদের জন্য রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।



