বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে দীর্ঘদিনের জট কাটাতে এবার প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গতি আনল নবান্ন। যাঁরা এখনও বকেয়া ডিএ পাননি—বিশেষত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, অধ্যাপক এবং পুর ও পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মীরা—তাঁদের অর্থপ্রদানের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, ১৩ এপ্রিলের মধ্যেই এই SOP-এর বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, কীভাবে বকেয়া ডিএ পরিশোধ করা হবে, কোন প্রক্রিয়ায় টাকা পৌঁছবে—তার স্পষ্ট রূপরেখা চেয়ে পাঠিয়েছে প্রশাসন।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি নবান্ন-এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ১ এপ্রিল যাঁরা বকেয়া পাননি, তাঁদের পাওনা মেটাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই বৈঠকেই স্কুল শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই উচ্চশিক্ষা দপ্তর রাজ্যের সরকারি ও সরকারপোষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির কাছে কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এর পাশাপাশি, সম্ভাব্য আর্থিক ব্যয়ের হিসেবও চাওয়া হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা যায়।
তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচনী আবহের কারণে বহু সরকারি কর্মী ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকায় SOP তৈরির কাজ কিছুটা ধীর গতিতে এগোচ্ছে। তবুও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বকেয়া ডিএ মেটানোর পথে প্রশাসনিক স্তরে একধাপ অগ্রগতি হলেও, বাস্তবে কবে টাকা হাতে পাবেন কর্মীরা—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অপেক্ষায়।



