তৃতীয় বার নন্দীগ্রামের মাটি থেকে জয়ের মুকুট মাথায় তুলে বুধবার কার্যত শক্তিপ্রদর্শনে নামলেন শুভেন্দু অধিকারী। সকালেই নন্দীগ্রামে পৌঁছতেই রাস্তা জুড়ে উপচে পড়া ভিড়, স্লোগান আর আবেগে ভেসে যায় এলাকা। সমর্থকদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা, “নন্দীগ্রামের মানুষের ঋণ আমি শোধ করবই।” একইসঙ্গে বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় দাবি করে তিনি বলেন, “বিজেপি ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকবে।” তবে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেও কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার বার্তাও দেন তিনি।
২০১৬ থেকে শুরু করে ২০২১, তারপর ২০২৬— টানা তিন নির্বাচনে নন্দীগ্রামের মানুষ শুভেন্দু অধিকারীর উপর আস্থা রেখেছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও ৯ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেয়েছেন তিনি। ফলে ফল ঘোষণার পর থেকেই নন্দীগ্রামে ছিল উচ্ছ্বাসের আবহ। বুধবার সকালে শুভেন্দুর এলাকায় ফেরাকে ঘিরে সেই আবেগ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।


নন্দীগ্রামে ঢুকতেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ঢল নামে রাস্তায়। বহু জায়গায় ফুলের মালা, পতাকা এবং স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। কার্যত জনজোয়ারের মধ্য দিয়েই এলাকায় প্রবেশ করেন বিজেপি নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কর্মসূচি শুধু ধন্যবাদ জ্ঞাপন নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট করে দিল।
সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষ আমাকে বারবার ভালোবাসা দিয়েছেন। এই ঋণ আমি কাজের মাধ্যমে শোধ করব।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির উত্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তবে ভোট-পরবর্তী উত্তেজনার আবহে তিনি কর্মীদের সংযত থাকার পরামর্শও দেন। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, “কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। যাঁরা অন্যায় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পথেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রাজনৈতিক সংঘর্ষের আবহে তাঁর এই মন্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


নন্দীগ্রামের মাটি যে এখনও শুভেন্দুর রাজনৈতিক শক্তির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র, বুধবারের জনসমাগম যেন সেই ছবিটাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।







