রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহের মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের এক কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পুরোনো অস্ত্র আইনের মামলায় মঙ্গলবার রাতে পূজালি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শেখ আমিরুল ইসলামকে আটক করে এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতা বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট ধরতে এসেছিলেন আমিরুল। বিমানবন্দরে নিয়মমাফিক ব্যাগ স্ক্যানিংয়ের সময় তাঁর লাগেজ থেকে একটি খালি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তখনই চাঞ্চল্য ছড়ায়।


অভিযুক্ত কাউন্সিলারের দাবি ছিল, ওই ম্যাগাজিন এবং গুলির জন্য তাঁর কাছে বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। লাইসেন্স জমা দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে সময়ও চান তিনি। জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তাঁকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।
কিন্তু অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কোনও বৈধ লাইসেন্স জমা দেননি আমিরুল। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। যদিও মামলা দায়েরের পর এতদিন তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
মঙ্গলবার রাতে হঠাৎই তাঁকে গ্রেপ্তার করে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই মামলায় আরও কিছু তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই কারণেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার আবেদন জানানো হবে আদালতে।


পূজালি পুরসভা বজবজ বিধানসভা কেন্দ্র এবং ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বড় ধাক্কা লাগলেও বজবজ কেন্দ্রে জয় ধরে রেখেছে ঘাসফুল শিবির। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী অশোককুমার দেব প্রায় ৪৭ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন।
তবে রাজ্যে সরকার বদলের মাত্র দু’দিনের মধ্যেই এই গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।







