প্রথম কর্মদিবসেই গতি ও বার্তা—দলীয় বৈঠক সেরে সরাসরি নবান্নে ছুটলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য দফতর থেকে বেরিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে পূর্ণমাত্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি স্পষ্ট, যেখানে দিনভর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত থাকবেন তিনি।
সোমবার সকালে চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বেরিয়ে প্রথমে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সল্টলেকের বাড়িতে যান শুভেন্দু। সেখানে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের পর তাঁকে সঙ্গে নিয়েই একই গাড়িতে পৌঁছন বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সেজে উঠেছিল গোটা দফতর—ফুল, উত্তরীয় ও ঐতিহ্যবাহী বরণে তৈরি ছিল দলীয় কর্মীরা। জানা গিয়েছে, ২০৭টি পদ্মফুলের মালা দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানানোর প্রস্তুতিও ছিল।


দলীয় কার্যালয়ে একপ্রস্থ সাংগঠনিক বৈঠক সেরে নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বেলা ১১টা নাগাদ সেখানে বসতে চলেছে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নবান্নে পৌঁছনোর সময় তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
বিজেপি দফতর থেকে নবান্নের পথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, প্রথম দিনেই ম্যারাথন প্রশাসনিক কর্মসূচি

শুধু মন্ত্রিসভা নয়, একই দিনে টানা একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকের সূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথমে শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন তিনি। এরপর জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে জেলাভিত্তিক কাজের অগ্রগতি ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিকেলে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে সংবেদনশীল জেলাগুলির ওপর জোর দেওয়া হতে পারে।
এর আগে রবিবারই নবান্নে নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে কলকাতা ও হাওড়া পুলিশ। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ ও হাওড়া পুলিশের কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদীর নেতৃত্বে নবান্ন চত্বর ঘুরে দেখা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা, বৈঠকের কক্ষ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।


সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রথম দিনেই প্রশাসনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের যে ছবি সামনে এল, তাতে স্পষ্ট—দ্রুত কাজের গতিতে রাজ্য পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী।







