শমীকের বাড়ি থেকে বিজেপি দফতর—একই গাড়িতে শুভেন্দু, প্রথম দিনেই কৌশল স্পষ্ট

সল্টলেকে শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে বৈঠক সেরে একই গাড়িতে বিজেপি দফতরে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, প্রথম দিনেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতায় জোর

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসেই বার্তা পরিষ্কার—দল ও প্রশাসন, দু’দিকেই সমান জোর। সোমবার সকালে সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই একই গাড়িতে দু’জনে রওনা দেন বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ের উদ্দেশে, যেখানে দিনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনার সূচনা হওয়ার কথা।

সকালে চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় পৌঁছয় সল্টলেকের বিএইচ ব্লকে শমীকের পৈতৃক বাড়িতে। সেখানে কিছু সময় একান্তে আলোচনা করেন দুই নেতা। বৈঠকের বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও, দলীয় সংগঠন ও সরকারের প্রাথমিক রূপরেখা নিয়েই কথাবার্তা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

শুভেন্দুর আগমন ঘিরে শমীকের বাড়ির সামনে সকাল থেকেই ভিড় জমায় সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নামতেই পদ্মফুলের মালা পরিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। কিছুক্ষণ পর শমীককে সঙ্গে নিয়ে একই গাড়িতে চেপে দলীয় দফতরের দিকে রওনা দেন তিনি। সেখানে শঙ্খধ্বনি ও উত্তরীয় দিয়ে তাঁকে বরণ করার প্রস্তুতি ছিল আগেই।

রাজনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রশাসনিক দিকেও ব্যস্ত সূচি শুভেন্দুর। সোমবার দুপুর ১২টায় নবান্নে তাঁর নেতৃত্বে বসছে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। একই দিনে পরপর একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে। প্রথমে শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন তিনি—যেখানে উপস্থিত থাকার কথা ডিজি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনারসহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের।

গত শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণের মাধ্যমে রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর এটাই কার্যত পূর্ণাঙ্গ কাজের শুরু। শপথের দিনই ধর্মতলায় পূর্ত দফতরের অস্থায়ী শিবিরে প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন শুভেন্দু। সেখানে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজির সঙ্গে প্রাথমিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি।

নতুন সরকারের প্রথম দিনেই রাজনৈতিক সমন্বয় ও প্রশাসনিক তৎপরতার এই সমান্তরাল ছবি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—আগামী দিনে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সংগঠনের পুনর্গঠনে জোর দিতে চাইছে রাজ্যের নতুন নেতৃত্ব।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন