সাম্প্রতিক ফর্ম ভারতের টি-টোয়েন্টি শিবিরে স্বস্তি দিচ্ছে না। তবু আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। আহমেদাবাদের জিএলএস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের সামনে নিজের ব্যাড প্যাচ নিয়ে অকপটে কথা বললেন তিনি—স্বীকার করলেন ব্যর্থতার কথা, আবার জানালেন ফিরে আসার দৃঢ় প্রত্যয়।
সূর্যের বক্তব্য, একজন ক্রিকেটার সব সময় সেরা ছন্দে থাকবে—এমনটা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর কথায়, খারাপ সময় থেকেই শেখার সুযোগ আসে। “আমার কেরিয়ারেও এটা শেখার একটা অধ্যায়। ওঠানামা চলছে, কিন্তু এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াব,” বলেন তিনি।


অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থদের উপর আস্থার কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন সূর্যকুমার। তাঁর মন্তব্য, “এই মুহূর্তে দলের ১৪ জন আমার ব্যর্থতা ঢেকে দিচ্ছে। ওরা জানে, যেদিন আমি ছন্দে ফিরব, তখন কী হতে পারে।” এই আত্মবিশ্বাসই তাঁর কাছে বড় শক্তি বলে জানান তিনি।
পরিসংখ্যান অবশ্য কঠিন বাস্তবতার কথাই বলছে। গত বছর কোনও অর্ধশতক পাননি সূর্য। চলতি বছরে ১৯ ইনিংসে রান মাত্র ২১৮, গড় ১৩-এর ঘরে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে ভারত জয় পেলেও, চার ইনিংসে তাঁর রান ছিল মাত্র ৩৪। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপের আগে অধিনায়কের ফর্ম নিয়ে।
তবে ৩৫ বছর বয়সি এই ব্যাটার নেতিবাচক চিন্তা দূরে রাখছেন। স্কুলের পরীক্ষার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, খারাপ ফল হলে যেমন পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া হয় না, বরং আরও বেশি পরিশ্রম করা হয়—তিনিও তেমনটাই করছেন।


আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সেই পরিশ্রমের ফল দেখাতে চান সূর্য। নাগপুর থেকে ত্রিবান্দ্রম—একাধিক ভেন্যুতে হবে ম্যাচগুলি। ফেব্রুয়ারিতে দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজই তাঁর জন্য বড় পরীক্ষা।
এখন প্রশ্ন একটাই—ব্যাটে রানের খরা কাটিয়ে অধিনায়ক কি আবার সেই ‘স্কাই’ হয়ে উঠতে পারবেন, যিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন? উত্তর মিলবে নিউজিল্যান্ড সিরিজেই।







