নজরবন্দি ব্যুরোঃ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বক্তব্যেই মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট! শুক্রবারের এই রায় নিয়ে নানা মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সংবাদ্মাধ্যমের একটা বড় অংশ, এই রায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। শনিবার রায়ের কপি সুপ্রিম কোর্টের পোর্টালে আপলোড করা হলে স্পষ্ট হয়ে যায় দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে মান্যতা পেয়েছে অভিষেকের বক্তব্য।
আরও পড়ুনঃ সংসদ হামলার ঘটনা নিয়ে সাংসদের চিঠি দিলেন ওম বিড়লা, কী লিখলেন স্পিকার?


ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি এস ভি এন ভাট্টির বেঞ্চে অভিষেকের আইনজীবী গোপালকৃষ্ণণ আইয়ার বলেন, কলকাতা হাই কোর্টের এক মহিলা বিচারপতি এমন কিছু পর্যবেক্ষণ রাখছেন, যা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) আইনজীবীও বলছেন না। দুর্নীতি, বিশাল সম্পত্তির মতো কথা উঠে আসছে বিচারপতির পর্যবেক্ষণে। যা হাতিয়ার করে তৃণমূল বিরোধী দলের নেতারা টুইট করছেন। পাশাপাশি চলছে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’। অভিষেকের আইনজীবী ‘সাহারা বনাম সেবি’ মামলার উল্লেখ করে আদালতে অনুরোধ করেন, যেন মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর প্রচার বন্ধের নির্দেশ দেয় আদালত।

এর পরেই, ‘সাহারা বনাম সেবি’ মামলার উল্লেখ করে বিচারপতি খান্না বলেন, সেবি বনাম সাহারা মামলায় মিডিয়া ট্রায়াল সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ এখনও সব ক্ষেত্রেই বহাল। একইসঙ্গে আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের বক্তব্য কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চে জানানোর নির্দেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ চলতি বছরের ৮ ডিসেম্বরের এবং ৫ অক্টোবরের ডিভিশন বেঞ্চের রায় উল্লেখ করে তাঁদের পর্যবেক্ষণ জানান।



মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর প্রচার বন্ধের নির্দেশ, অভিষেকের বক্তব্যে মান্যতা সুপ্রিম কোর্টের
বেঞ্চের পর্যবেক্ষন, সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারককে মনে রাখতে হবে যে তদন্ত চলাকালীন যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না। এই ধরনের প্রতিকূল পর্যবেক্ষণ ক্ষতিকর হতে পারে এবং তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। আদালত মন্তব্য, এটি নিশ্চিত করা হবে যে তদন্তকারী সংস্থা সমস্ত প্রয়োজনীয় এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে আদালতে জমা করবে এবং তদন্তের ফলাফলের বিষয়ে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করবে।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ অতীতের ছ’টি মামলার উল্লেখ করেছে। যেখানে বলা হয়েছিল, যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত কোনও আইন বা ধারা লঙ্ঘন না করছে, ততক্ষণ আদালতের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন নেই। তদন্তের সমস্ত দিক বিচারবিভাগ দূরে থাকবে। পাশাপশি পুলিশিডায়েরির তথ্য বা তদন্তে পাওয়া বয়ান আদালত প্রকাশ করতে পারে না। সুপ্রিম নির্দেশ, এমন কোনও পর্যবেক্ষণ আদালত দেবে না যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ এক প্রতিক্রিয়ায় নজরবন্দিকে জানান, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন মামলাকে কেন্দ্র করে মিডিয়ায় অপপ্রচার চলছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন অভিষেক। আজ অভিষেকের বক্তব্যকেই মান্যতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত।”








