নজরবন্দি ব্যুরোঃ এবার থেকে আর রাজ্যপাল নয় রাজ্যের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পাশ হলেই রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা-সহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আভ্যন্তরীণ শিক্ষাগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা চলে যাবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে।
আরও পড়ুনঃ আমার বেলায় ৪০, নিজের বেলায় ৮০, খোশমেজাজে মেয়রকে প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর


এই বিষয়ে বিধানসভায় আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে বলে জানিয়েছেন ব্রাত্য বসু। আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত পাস করানোর জন্য পাঠানো হবে বিধানসভায়। বিধানসভায় পাস হওয়ার পর, তারপর তা আইন হিসেবে গৃহীত হবে।

আচার্যের পদে রাজ্যপালের বদলে মুখ্যমন্ত্রী, এটা সম্পূর্ণটাই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সম্পর্কের যে সমীকরণ, তারই ফলস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যপাল-নবান্ন সংঘাত ছিলই। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী দেখার বিষয়টি অনুমোদনের পর ওই সংঘাত নয়া মাত্রা পেতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।



তৃণমূল ব্যাতীত রাজ্যের সব রাজনৈতিক দল এবং শিক্ষক সংগঠনগুলো রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করেছে। তীব্র কটাক্ষ করেছেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও। সুজনের মতে, মমতা বন্দোপাধ্যায় একজন জাল ডক্টরেট আর সেই মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকেই কিনা ডক্টরেট নেবেন আসলরা? রাজ্য মন্ত্রীসভার এই পদক্ষেপকে, ‘দূর্নীতি, চাটুকারিতা আর কলুষতা’র নাম দিয়েছেন সুজন।
সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। যে মুখ্যমন্ত্রী এপাং ওপাং ঝপাং, আমরা সবাই ড্যাং ড্যাং লিখতে পারেন, তিনি ছাড়া রাজ্যে আচার্য হওয়ার জন্য আর কে যোগ্য আছে। ওঁর থেকে বেশি যোগ্য আর কেউ নেই রাজ্যে। শিক্ষা দফতর বুঝে গেছে, যে শিক্ষক নিয়োগে দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে মুখ্যমন্ত্রীকেই আচার্য করতে হবে।’
এবার জাল ডক্টরেটের হাত থেকে আসলরা সার্টিফিকেট নেবে, ‘আচার্য মমতা’কে তীব্র কটাক্ষ সুজনের

মুখ্যমন্ত্রীই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য হবেন!
হাস্যকর এবং দুর্ভাগ্যজনক।।ফেক পিএইচডি।
সাহিত্য একাডেমির
এপাং ওপাং ঝপাং।
নবান্ন থেকে উপাচার্যদের
মাথায় – ড্যাঙ ড্যাঙ।।শেষমেশ জাল ডক্টরেটের হাত থেকে
আসলরা সার্টিফিকেট নেবে?
কি বাকি থাকল আর!!দূর্নীতি, চাটুকারিতা আর
কলুষতা'ই বটে।। pic.twitter.com/2ns5OP03XD— Dr.Sujan Chakraborty (@Sujan_Speak) May 26, 2022
একটি ট্যুইটে তিনি লিখেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য হবেন! হাস্যকর এবং দুর্ভাগ্যজনক।। ফেক পিএইচডি। সাহিত্য একাডেমির এপাং ওপাং ঝপাং। নবান্ন থেকে উপাচার্যদের মাথায় – ড্যাঙ ড্যাঙ।। শেষমেশ জাল ডক্টরেটের হাত থেকে আসলরা সার্টিফিকেট নেবে? কি বাকি থাকল আর!! দূর্নীতি, চাটুকারিতা আর কলুষতা’ই বটে।”







