ভোট গণনাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য চালু হচ্ছে কিউআর কোড–ভিত্তিক ফটো আইডি কার্ড। অনধিকার প্রবেশ রুখতে এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাই হবে শেষ কথা—যাচাই না হলে ঢোকার অনুমতি মিলবে না।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৪ মে ২০২৬ থেকে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরির বিধানসভা ভোটের গণনা থেকেই শুরু হচ্ছে এই নিয়ম। পাশাপাশি কিছু উপনির্বাচনেও একই পদ্ধতি চালু করা হবে। ভবিষ্যতে লোকসভা ও অন্যান্য নির্বাচনে এটি স্থায়ীভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।


কীভাবে কাজ করবে নতুন ব্যবস্থা?
গণনাকেন্দ্রে প্রবেশে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা—
- প্রথম স্তর: ফটো আইডি কার্ডের প্রাথমিক যাচাই
- দ্বিতীয় স্তর: পুনরায় ম্যানুয়াল যাচাই
- তৃতীয় স্তর (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
কিউআর কোড স্ক্যান করে ডিজিটাল যাচাই
স্ক্যান সফল হলেই মিলবে প্রবেশের অনুমতি
কারা পাবেন এই আইডি?
এই কিউআর কোড–ভিত্তিক আইডি শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিদের জন্যই প্রযোজ্য, যেমন—
- রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার
- গণনা কর্মী ও প্রযুক্তিগত কর্মী
- প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্ট
- গণনা এজেন্ট
এর ফলে অননুমোদিত কারও প্রবেশ কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে কমিশন।


মিডিয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা
গণনাকেন্দ্রের কাছেই তৈরি করা হবে বিশেষ মিডিয়া সেন্টার, যাতে সাংবাদিকরা সহজে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। তবে তাঁদের প্রবেশ আগের মতোই অনুমতিপত্রের ভিত্তিতেই হবে।
প্রশাসনের জন্য নির্দেশ
জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও রিটার্নিং অফিসারদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—
- পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত কর্মী মোতায়েন করতে
- নির্দিষ্ট চেকপয়েন্টে দ্রুত স্ক্যানিং নিশ্চিত করতে
কেন এই পরিবর্তন?
গত এক বছরে নির্বাচন প্রক্রিয়া আধুনিক করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। এই কিউআর কোড আইডি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। লক্ষ্য একটাই—
নিরাপত্তা জোরদার
স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
দ্রুত ও নির্ভুল যাচাই
সব মিলিয়ে, গণনার দিন এবার প্রযুক্তির নজরদারিতে আরও কড়া হতে চলেছে প্রবেশব্যবস্থা।








