ভোট গণনার আগে নিরাপত্তা ঘিরে বড় প্রশ্ন—বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজের স্ট্রং রুম চত্বরে ছড়াল উত্তেজনা। অভিযোগ, কিছু সময়ের জন্য সিসিটিভি নজরদারি বন্ধ ছিল। সেই খবর ছড়াতেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা, পৌঁছে যান প্রার্থীরাও। মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নারায়ণ গোস্বামী, অশোকনগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী, সরাসরি অভিযোগ তোলেন—স্ট্রং রুমে সিসিটিভি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, “এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে দায়ীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং পুরো ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে।” বিষয়টি জানার পরই তিনি নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদ জানান।


তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, মনিটর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল এবং রেকর্ডিং বন্ধ হয়নি। অর্থাৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক হয়নি বলেই দাবি প্রশাসনের।
এদিকে, উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছন এসডিপিও আজিঙ্কা অনন্ত। তাঁর নেতৃত্বে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্ট্রং রুম চত্বরে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।
অন্যদিকে, BJP-র অভিযোগ, তাঁদের প্রতিনিধিদের স্ট্রং রুম পাহারার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এর জেরে গেটের সামনে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পরে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেন কর্মীরা।


ঘটনার জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য, এর আগের দিনই সিসিটিভি নজরদারি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন নারায়ণ গোস্বামী। শনিবারের ঘটনার পর তিনি আরও কড়া সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে তাঁর দল।
যদিও প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তবে এই ঘটনার পর ভোট গণনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট।







