ভোটগণনার শুরু থেকেই উত্তরবঙ্গে শক্ত ভিতের ইঙ্গিত দিয়েছে বিজেপি। পোস্টাল ব্যালট থেকেই এগিয়ে থাকা শুরু, আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই লিড আরও মজবুত হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার—উত্তরের একাধিক জেলায় গেরুয়া আবিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন কর্মী-সমর্থকেরা। সব মিলিয়ে স্পষ্ট বার্তা—উত্তরবঙ্গে নিজেদের গড় ধরে রাখার পাশাপাশি তা আরও শক্ত করছে বিজেপি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে ৩৪টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবারের ট্রেন্ড বলছে, সেই সংখ্যা ছাপিয়ে ৪০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অগ্রগতি রাজ্যের সামগ্রিক ফলাফলেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


চা বলয়ে বিজেপির একচ্ছত্র দাপট
দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি মিলিয়ে চা বলয়ের মোট ২২টি আসন দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। এবারের ট্রেন্ডেও সেই ছবি অপরিবর্তিত। প্রায় সব আসনেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থীরা।
শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, রাজগঞ্জ, নাগরাকাটা, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, কোচবিহার দক্ষিণ, শীতলকুচি, দিনহাটা, কালচিনি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের লিড স্পষ্ট।
- শিলিগুড়িতে শঙ্কর ঘোষ প্রায় ৩২ হাজার ভোটে এগিয়ে
- ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে শিখা চট্টোপাধ্যায় প্রায় ২৩ হাজার ভোটে লিডে
- মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে আনন্দময় বর্মণ প্রায় ২২ হাজার ভোটে এগিয়ে
উচ্ছ্বাসে মেতে কর্মী-সমর্থকরা
বেলা ১১টার পর থেকেই উত্তরবঙ্গ জুড়ে শুরু হয় উদযাপন। দলীয় পতাকা হাতে মিছিল, গেরুয়া আবির খেলা, মিষ্টি বিতরণ—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ। প্রাথমিক ট্রেন্ড সামনে আসতেই আত্মবিশ্বাস বেড়েছে কর্মীদের।


গত লোকসভা নির্বাচনেও উত্তরবঙ্গে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। এবার সেই ভোটব্যাঙ্ক আরও বাড়বে বলেই আশা করেছিলেন দলের নেতারা। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা উত্তরবঙ্গে প্রচার করেন। তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এবারের ফল উত্তরবঙ্গে অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে পারে। আর সেই শক্ত ভিতই রাজ্যে সরকার গঠনের পথে বড় ভূমিকা নেবে—এমনটাই আশা গেরুয়া শিবিরের।







