আসানসোল দক্ষিণে গেরুয়া ঝড়ে কার্যত ধুয়ে গেল তৃণমূল। ১৫ রাউন্ড গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল বিপুল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলেন। প্রায় ৪০,৮৩৯ ভোটে জিতে তিনি প্রমাণ করলেন—এই কেন্দ্রে বিজেপির জমি আরও শক্ত হয়েছে। জয়ের শংসাপত্রও ইতিমধ্যেই হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি।
ভোটের হিসেবে অগ্নিমিত্রা পালের ঝুলিতে এসেছে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৮২ ভোট। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৭৪৩ ভোট। সিপিএম প্রার্থী শিল্পী চক্রবর্তীর প্রাপ্ত ভোট ১০,৩৯০। এই বিশাল ব্যবধানেই স্পষ্ট, আসানসোল দক্ষিণে এবারের লড়াই একপেশে হয়ে গিয়েছে।


জয়ের পরই কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন অগ্নিমিত্রা। গেরুয়া আবিরে রাঙা হয় চারপাশ। রাজনৈতিক বার্তাও দেন তিনি—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, “বাংলার মানুষ ডিজে বাজিয়ে দিয়েছে। জনতার উপরে কেউ নেই। বিনয়ী হতে শিখুন, মানুষ জবাব দিয়েছে।”
এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাসও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১১ ও ২০১৬ সালে পরপর দু’বার তৃণমূলের হয়ে জয়ী হয়েছিলেন তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ২০২১ সালে ছবিটা বদলায়—তখন বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল তৃণমূলের সায়নী ঘোষকে হারিয়ে এই আসন দখল করেন। এবারের ভোটে সেই আসন ধরে রাখাই ছিল বিজেপির বড় চ্যালেঞ্জ, আর তা শুধু ধরে রাখাই নয়, আরও বড় ব্যবধানে জয় এনে নিজের অবস্থান পোক্ত করলেন অগ্নিমিত্রা।
প্রথম দফা থেকেই এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলছিল। ১০ রাউন্ডের পরেই লিড ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত ৪০ হাজারের গণ্ডি পেরোয়। এই ফলাফল শুধু আসানসোলেই নয়, রাজ্য রাজনীতিতেও বড় বার্তা দিচ্ছে।


এখন প্রশ্ন—এই বড় জয়ের পর অগ্নিমিত্রা পালের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে কি? মন্ত্রিসভায় তাঁর জন্য কি অপেক্ষা করছে বড় কোনও দায়িত্ব? রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে সেই জল্পনা।







