‘সরকার আস্থা অনাস্থার দোলাচলে ভুগছে,’ অবিলম্বে বিধানসভা ডাকার বার্তা দিলেন সুজন চক্রবর্তী

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: সরকার আস্থা অনাস্থার দোলাচলে ভুগছে, শিয়রে একুশের ভোট। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি ময়দানে নেমেছে এবং একে অপরকে আক্রমণ করছে। তেমনই অন্যতম একটি ইস্যু হল কৃষি আন্দোলন। এই কৃষি আইন নিয়ে এবার কেন্দ্রকে এক হাত নিলেন বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী। সেইসঙ্গে বিধানসভা না ডাকা নিয়ে রাজ্য সরকারকে এক হাত নিলেন সুজনবাবু।

আরও পড়ুন: আপনি কি স্নাতক? তাহলে স্টাফ সিলেকশন কমিশনের এই পদগুলিতে আবেদন করুন তাড়াতাড়ি!

তিনি বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়ে আমরা চিঠি দিয়ে অবিলম্বে বিধানসভা অধিবেশন ডাকার কথা বলেছি। সব রাজ্যে বিধানসভা অধিবেশন হচ্ছে। সব ধরণের কাজ চলছে। তাহলে এ রাজ্যে কেন বিধানসভা অধিবেশন হবে না? খুব জরুরি এখন। যেভাবে আমাদের দেশে কৃষি আইন হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের রাজ্যের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য আইনি ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে বিধানসভায়। অন্যান্য রাজ্যগুলো তো নিয়েছে যেমন, পঞ্জাব, রাজস্থান সহ সবাই। আমাদের রাজ্যে কেন নেওয়া হচ্ছে না?’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি পণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য স্থির করে তার চাইতে কমে কৃষকদের থেকে নেওয়া যাবে না, কৃষককে ঠকানো যাবে না। কেরালা করেছে, আমরা কেন এ রাজ্যে করব না? জরুরি, এরকম অনেকগুলি প্রসঙ্গ রয়েছে যেগুলো বিধানসভায় ছাড়া আলোচনা করা সম্ভব নয়। ২০১৪ সালে যে আইন করেছিল সেটা তো বাতিল করতে হবে। বিধানসভাতেই তো করতে হবে। বেআইনি, অন্যায়। রাজ্য সরকার চুপ করে বসে আছে।’

এই বর্ষীয়ান বাম নেতার বক্তব্য, ‘প্রায়ই দেখি মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সভায় গিয়ে যখন তখন হরেক প্রকল্পের ঘোষনা করছেন। বিধানসভার অনুমোদন আছে? না। বাজেটের প্রস্তাব আছে? না। বাজেটের বরাদ্দ আছে? না। ২০২১ এর ভোটের আগে আর তো ফুল বাজেট করার সুযোগও নেই। তাহলে কি সরকার স্কিম ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করছে? যুবকদের প্রতারণা করছে? কেন এটা হচ্ছে? যদি কোনো আলোচনা করতে হয় তাহলে তা বিধানসভায় করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিধানসভায় অনেক কথা আছে। কর্মসংস্থান ইস্যু আছে, মূল্যবৃদ্ধির ইস্যু আছে। ফলে এসব আলোচনা করার জন্য অবিলম্বে আমরা বিধানসভা ডাকার আবেদন করেছি। আর তা যদি না করে তাহলে তার অর্থ দাঁড়াবে যে সরকার তাহলে দ্বিচারী, মুখে বলছে আমরা কৃষকের পক্ষে কিন্তু বাস্তবে তাদের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। আরেকটা হতে পারে, শাসকদলের নেতাদের তাদের নিজেদেরই অবস্থান ঠিক নেই। তাঁরা এক একজন সুরে কথা বলছে। তাঁরাও বলছেন যে বিধানসভা ডাকা হোক অথচ সরকার তা চাইছে না।’

সরকার আস্থা অনাস্থার দোলাচলে ভুগছে, আমার প্রশ্ন হল তৃণমূলের যারা সদস্য বিধানসভার তাদের কি সরকারের পক্ষে আস্থা নেই? সরকার কি ভয় পাচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রী কি এটা নিজেই বুঝতে পারছেন যে তারই দলের সদস্যদের দলের প্রতি আর আস্থা নেই বলে বিধানসভা ডাকছেন না?’ তৃণমূলকে এক হাত নিয়ে সুজনবাবু বলেন, ‘ আমাদের এই দলের প্রতি আশা ভরসা নেই আর ছিলও না কোনোদিন। সরকার আস্থা অনাস্থার দোলাচলে ভুগছে। কাজের মধ্যে তার ছাপ পড়ছে। ক্ষতি হচ্ছে রাজ্যের। তাই অবিলম্বে বিধানসভা ডাকুক।’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত