পঁচিশে বৈশাখে ব্রিগেডে শপথ! থাকবেন মোদী-শাহ, নবান্নে শমীক, হিংসা নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপির

পঁচিশে বৈশাখে ব্রিগেডে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথের প্রস্তুতি শুরু। নবান্নে গিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করলেন শমীক ভট্টাচার্য, হিংসা ও দলবদল নিয়ে দিলেন কড়া বার্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার সরকার গঠনের কাউন্টডাউন শুরু। আগামী ৯ মে পঁচিশে বৈশাখের দিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হতে চলেছে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান— এমনটাই জানাল বিজেপি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও দলীয় সূত্রে খবর। তার আগেই বুধবার নবান্নে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে উঠে এল আরও এক বড় বার্তা— ভোট-পরবর্তী হিংসা বরদাস্ত করা হবে না এবং বিজেপিতে “তৃণমূলীকরণ” চলবে না।

বুধবার দুপুরে নবান্নে পৌঁছন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতো ও সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। ব্রিগেডে সম্ভাব্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা নিয়েই মূলত মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে আলোচনা হয় বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে।

তবে নবান্নে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক স্পষ্ট ভাষায় ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে অবস্থান জানান। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে কেউ যদি তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালায়, তার দায় এখনই বিজেপি নেবে না। কারণ এখনও সরকার গঠন হয়নি। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতির বড় অংশই “তৃণমূল বনাম তৃণমূলের সংঘর্ষ”।

শমীক আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সতর্ক করে আসছিলেন যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর একটি “সংবেদনশীল সময়” তৈরি হবে। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা রাজ্যপাল, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল দলবদল প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোটের ফল বেরোনোর পর যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসতে চাইছেন, তাঁদের সবাইকে দলে নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হতে দেব না। যাঁরা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে এই দল গড়েছেন, তাঁদের আত্মসম্মান রক্ষা করতেই হবে।”

২০২১ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে ব্যাপক দলবদলের রাজনীতি দেখেছিল বাংলা। সেই অভিজ্ঞতার কথা টেনে এনে শমীক বলেন, বিজেপি সেই পুরনো ভুল আর করবে না। দলের আদর্শ ও সংগঠনের ভিত্তি অটুট রাখার উপরই জোর দেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে এখনও বিজেপি কর্মীরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও হিংসার শিকার হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা এবং ইতিমধ্যেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও দল হিংসার পথে হাঁটবে না বলেই আশ্বাস দেন শমীক। প্রয়োজনে পুলিশকে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

এদিকে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যায়। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা। যদিও এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত