দিদিকে কেন ছাড়লেন? কারণ জানালেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিদ্রোহী সাংসদদের পাশে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকুন দলের প্রধান উপদেষ্টা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেতা কেন বিদ্রোহী সাংসদদের পাশে দাঁড়ালেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। রবিবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন তিনি।

লোকসভায় সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে ওঠার আগে দিল্লিতে একজোট হয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই শিবিরে যোগ দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক অবস্থান বা নতুন রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আবেদন জানানো হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা।

এই আবহে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অধিকাংশ সাংসদ এবং বিধায়কের একটাই ইচ্ছা—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকুন। তাঁদের সেই আবেগ এবং আবেদনই তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেই কারণেই তিনি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

তবে বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে চাননি তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, প্রবীণতা এবং অভিজ্ঞতার নিরিখে নতুন গোষ্ঠীর অন্যতম মুখ হতে পারেন সুদীপ। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর দলনেতা হওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই।

বরং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ভূমিকাকেই সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। সুদীপের কথায়, প্রথম দিন থেকেই কাকলি এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন মহল থেকে আসা চাপ এবং অনুরোধের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত তিনি এই শিবিরের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। সেই প্রসঙ্গে সুদীপ জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন বৈঠকটি খুব সংক্ষিপ্ত হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে।

অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে স্পিকারকে পাঠানো চিঠিতে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে কি না, তা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে সুদীপ জানান, তিনি এখনও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি।

তাঁর দাবি, তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়েছিলেন যে, শুভেন্দু দিল্লিতে এলে তারপরই তিনি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। রবিবার রাতে একটি নৈশভোজে তাঁদের সাক্ষাৎ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। কারণ তিনি একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত রাখছেন।

ফলে আগামী দিনে এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে এগোয় এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর