নজরবন্দি ব্যুরোঃ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আবার তাতে হস্তক্ষেপ করেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু নিয়োগে অস্বচ্ছতার কারণে বারবার বঞ্চিত হয়েছেন চাকরি প্রার্থীরা। তবুও আশা বিন্দুমাত্র না ছেড়ে তিন দফায় ৬০৯ দিন ধরে আন্দোলন জারি রেখেছেন চাকরি প্রার্থীরা। এখন তাঁদের ঠিকানা ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশ।
আরও পড়ুনঃ TET: ডেডলাইন সোমবার সকাল ১০ টা, বিরাট পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি চাকরি প্রার্থীদের


রবিবার হবু শিক্ষক-শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের ধর্ণা মঞ্চে এসেছিলেন নিখিল ভারত ব্রতচারী ঞ্জানজ্যৈতি বিদ্যামন্দিরের পক্ষ থেকে ব্রতচারী গবেষক জন্মেজয় শ্যামল। তিনি বঞ্চিত শিক্ষক-শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের কাছে দাবি করেন যে বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের অবিলম্বে চাকরিতে নিয়োগ করার জন্য।

প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালে কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে ২৯ দিনের অনশন চলছিল। সেই সময় নিয়োগ নিয়ে তাঁদের প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তাও যোগ্যদের চাকরি মেলেনি। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সেন্ট্রাল পার্কের পাঁচ নম্বর গেটের সামনে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন। তৃতীয় পর্যায়ে ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ৬০০ দিন ধরে চাকরি প্রার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইতিমধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জেলবন্দি হয়েছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য, স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অশোক সাহা, শান্তি প্রসাদ সিনহা ও মিডলম্যানদের। বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি হয়েছে। একথা বারবার আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।


তিন দফায় ৬০৯ দিন ধরে আন্দোলন, বিরাট পদক্ষেপ চাকরি প্রার্থীদের

আদালতের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করছে সিবিআই। তদন্তে মাঠে নেমেছে ইডিও। নিয়োগের ক্ষেত্রে চুড়ান্ত বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়ো নিয়োগ খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। চাকরি প্রার্থীদের বক্তব্য, নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে তা আদালতের নির্দেশে প্রমাণিত। তাই এখন দ্রুত নিয়োগের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, নিয়োগ নিয়ে তদন্ত চলছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী একটু মানবিক হয়ে নিয়োগ শুরু করে দিন।







