একদিকে যখন সন্দেশখালি ইস্যুতে (Sandeshkhali Issue) রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ শানাচ্ছেন বিরোধীরা। সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘খালিস্তানি’ বিতর্কে (Khalisthani Controversy) আদাজল ঘেয়ে ময়দানে নেমছে তৃণমূল। আর এবার কি খালিস্তানি বিতর্কে হস্তক্ষেপ করতে চলেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)? কারণ, বৃহস্পতিবার বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী ও অগ্নিমিত্রা পালের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে রাজভবনে গেলেন শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন: গলল বরফ! দিল্লিতে আপ-কংগ্রেস আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, বাংলায় কী হবে?


গত মঙ্গলবার সন্দেশখালি যাবার পথে ধামাখালিতে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়ান বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। সেখানে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। সন্দেশখালি প্রবেশে বাধা দেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় বিজেপির। সেখানেই পাগড়িধারী এক আইপিএস অফিসার যশপ্রীত সিংহ (এসএস-আইবি)-কে ‘খলিস্তানি’ (Khalisthani) বলে দেগে দেন অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবারই এই বিতর্কে সরব হতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)।

মঙ্গলবার রাত থেকেই বিজেপির মুরলীধর সেনের দফতরে বিক্ষোভ জানিয়েছেন শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। এই বিতর্ক প্রথমে অগ্নিমিত্রাকে নিয়েই শুরু হলেও বর্তমানে নাম জড়িয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরও (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার একাধিক জায়গায় মিছিলও করা হয় শুভেন্দু অধিকারীদের গ্রেফতারির দাবিতে। মঙ্গলবারই আবার দক্ষিণবঙ্গের ডিজি সুপ্রতিম সরকার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, এই ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়। আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।



খালিস্তানি বিতর্কে এবার বোসের এন্ট্রি? শুভেন্দুদের বিরুদ্ধে রাজভবনে শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫ নাগাদ রাজভবনে পৌঁছন শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, তাঁরা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের (CV Ananda Bose) সঙ্গে দেখা করে একটি ডেপুটেশন জমা দিতে চান। তাঁদের দাবি, সংবিধান বিরুদ্ধ মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা ও নেত্রী। তাই রাজ্যপাল যেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেন।

নিজের এক্স (সাবেক ট্যুইটার) হ্যান্ডেলে ঘটনাটির ভিডিও আপলোড করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) লিখেছেন, “পাগড়ি পরলেই খলিস্তানি? বিজেপি (BJP) তা হলে মনে করছে, যারা পাগড়ি পড়ে তারাই খলিস্তানি! ওদের বিভাজনের রাজনীতি এবার সাংবিধানিক সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আমি আমাদের শিখ ভাই ও বোনদের খ্যাতি ক্ষুন্ন করার এই প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের জাতির প্রতি তাঁদের ত্যাগ এবং অটল সংকল্পের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় দৃঢ়ভাবে রয়েছি এবং এটিকে ব্যাহত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”







