ভোটের আগে শেষ জনসভা থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি—বাংলায় এবার পরিবর্তন অনিবার্য, আর সেই পরিবর্তনের শপথগ্রহণে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে বারাকপুরে দাঁড়িয়ে এমনই আত্মবিশ্বাসী সুরে বিজেপির জয়ের বার্তা দিলেন তিনি।
সোমবার সকালে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, “বাংলার মেজাজ বলছে, এবার পদ্ম ফুটবেই। অঙ্গ, কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গে পদ্ম ফোটার পালা।” তাঁর দাবি, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও বিপুল জনসমাগমই এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


জগদ্দলের সভাস্থল—যেখানে সিপাহি বিদ্রোহের ইতিহাস জড়িয়ে—সেখানেই মঙ্গল পাণ্ডের স্মৃতি টেনে আবেগের সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এই প্রচার আমার কাছে তীর্থযাত্রার মতো। এত গরমেও মানুষের উচ্ছ্বাসই আমাদের শক্তি।”
এদিন সভায় বারাকপুর, ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল ও নৈহাটি-সহ একাধিক কেন্দ্রের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও মঙ্গল পাণ্ডের ছবি, যা গ্রহণ করে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মোদি।
বক্তৃতায় TMC-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষ এই সরকার থেকে মুক্তি চায়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের গতি বাড়বে।”


প্রধানমন্ত্রী পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন—যুবকদের দ্রুত নিয়োগ, সপ্তম পে কমিশন কার্যকর, শিল্প ও কর্মসংস্থানের প্রসার, গ্রামীণ এলাকায় বছরে ১২৫ দিনের কাজ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা।
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। প্রচারের শেষ দিনে মোদির এই বার্তা যে নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই যায়।







