দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাল পুলিশ প্রশাসন। মাত্র একদিনে ১০৯৫ জন দুষ্কৃতী গ্রেফতার—আর ৩৬ ঘণ্টায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫৪৩। ভোটের আবহে সম্ভাব্য অশান্তি রুখতেই এই ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স’ বা সিবিএম অভিযানে জোর দিয়েছে পুলিশ।
নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে চলা এই অভিযানে জেলাভিত্তিক হিসেবেও চোখে পড়ার মতো চিত্র সামনে এসেছে। সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলায়—৪৭৯ জন। এই তালিকায় রয়েছেন এক তৃণমূল কাউন্সিলরও, যাঁর বিরুদ্ধে পুলিশকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা—৩১৯ জন গ্রেফতার। সম্প্রতি জগদ্দল এলাকায় উত্তেজনার ঘটনার পর এই ধরপাকড় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে বিজেপি প্রার্থীর উপর হামলার অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৪৬ জন, কলকাতা উত্তরে ১০৯ জন, হুগলিতে ৪৯ জন, নদিয়া ও হাওড়ায় ৩২ জন করে গ্রেফতার হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে এই ব্যাপক অভিযান ভোটের আগে প্রশাসনের কড়া অবস্থানই স্পষ্ট করছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই অভিযান। আগামী দিনেও এই ধরপাকড় চলবে এবং আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রসঙ্গত, ভোটের আগে ‘ট্রাবল মেকার’ চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি কল্কাতা হাইকোর্টে গড়ায় এবং আদালত সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন যে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়—এই অভিযান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।







