মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত মিলতেই বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা খেল সোনা। যুদ্ধের আশঙ্কা যতটা বাড়িয়েছিল দামের পারদ, যুদ্ধবিরতির খবর ততটাই দ্রুত তা নামিয়ে দিল। ফলে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে সোনার বাজারে—বিশেষ করে ভারতের ক্রেতাদের জন্য।
বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েন, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইরান-এর মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা গত কয়েক সপ্তাহে সোনার দামকে চড়িয়ে দিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার খবর সামনে আসতেই লগ্নিকারীদের মনোভাব বদলাতে শুরু করে। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার উপর নির্ভরতা কিছুটা কমায় দামও নেমে আসে।


আজ, ২৭ এপ্রিলের বাজারদর অনুযায়ী, দেশে ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্রামে প্রায় ১৪,১৫৫ টাকা। আর ২৪ ক্যারেট সোনা বিকোচ্ছে প্রায় ১৫,৪৪২ টাকা প্রতি গ্রামে। সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এই পতন ক্রেতাদের কাছে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
শুধু কলকাতাই নয়, দেশের অন্যান্য শহরেও একই প্রবণতা। চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি—প্রতি গ্রামে প্রায় ১৫,৫২৪ টাকা। দিল্লি, চণ্ডীগড় ও গুরগাঁওয়ে তা ১৫,৪৫৭ টাকার আশেপাশে। আহমেদাবাদে দাম প্রায় ১৫,৪৪৭ টাকা। কলকাতা, বেঙ্গালুরু, ভুবনেশ্বর ও হায়দরাবাদে দাম প্রায় একই স্তরে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা এমন একটি সম্পদ যার দাম সরাসরি প্রভাবিত হয় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে। যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে দাম বাড়ে, আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা কমে। তাই আপাতত যুদ্ধবিরতির স্থিতি বজায় থাকলে সোনার দাম আরও স্থিতিশীল হতে পারে।


তবে সতর্কতাও রয়েছে। সোনার বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল—যে কোনও আন্তর্জাতিক ঘটনা মুহূর্তে দাম ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই বিনিয়োগ বা কেনাকাটার আগে বিশ্ববাজারের দিকে নজর রাখা জরুরি।
বিয়ের মরসুমের আগে এই দামের পতন মধ্যবিত্তের কাছে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে—এমনটাই মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।







