দীর্ঘ জল্পনা, সমালোচনা আর সোশ্যাল মিডিয়ার চাপের মাঝেই অবশেষে মুখ খুললেন শুবমান গিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে কোনও আক্ষেপ নয়—বরং নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি জানালেন, এই মুহূর্তে দলের সাফল্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে গিলের বার্তা, ভাগ্যে যা লেখা আছে তা সময়মতো ঠিকই আসবে।
ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক Shubman Gill শনিবার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি যেখানে থাকার কথা, সেখানেই আছি। ভাগ্যে যা লেখা আছে, কেউ তা কেড়ে নিতে পারবে না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, Board of Control for Cricket in India-র নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন এবং বিশ্বকাপে দলকে শুভকামনা জানান।


২৬ বছর বয়সি গিল এশিয়া কাপ ২০২৫-এ টি-টোয়েন্টি দলে সহ-অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা তাঁর বিশ্বকাপের স্বপ্নে ছেদ টানে। ২০২৫ সালে খেলা ১৫টি টি-টোয়েন্টিতে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ২১৯ রান—গড় ২৪.২৫, স্ট্রাইক রেট ১৩৭.২৬। একটিও অর্ধশতরান না থাকায়, Ajit Agarkar-এর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি তাঁকে বিশ্বকাপ দলে রাখেনি।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। গিলকে দলে রাখতে গিয়ে আগে বাদ পড়েছিলেন Sanju Samson, যিনি ২০২৪ সালে ওপেনার হিসেবে তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। ফলে সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় গিলের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়, কেউ কেউ দাবি করেন—এই নির্বাচন ভারতের পুরনো আক্রমণাত্মক ‘স্ল্যাম-ব্যাং’ টি-টোয়েন্টি দর্শন থেকে সরে আসার ইঙ্গিত।
তবে এসব বিতর্কে ঢুকতে চাননি গিল। তাঁর কথায়, “বর্তমানে বাঁচাটাই সবচেয়ে জরুরি। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ দারুণ। আমি সব সময় দেশের জন্য সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।” তাঁর এই সংযত প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই পরিণত মানসিকতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।


এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে India ও Sri Lanka যৌথভাবে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি, চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। ভারতের গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে আমেরিকা, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান। টিম ইন্ডিয়ার প্রথম ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি, Wankhede Stadium-এ আমেরিকার বিরুদ্ধে।







