রাজ্যে সরকার বদলের পর ফের বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমানোর পর এবার তৃণমূলের আরও একাধিক নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর নিরাপত্তায় কাটছাঁট করল লালবাজার। রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার থেকে শুরু করে কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাসদের বাড়ি থেকে হাউস গার্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে ভিআইপি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়। প্রথম ধাক্কা লাগে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায়। রাজ্য সরকারের তরফে পাওয়া অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং বাড়ির সামনে মোতায়েন থাকা পুলিশি ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, একজন সাংসদ হিসেবে যতটা নিরাপত্তা প্রাপ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এখন থেকে ঠিক ততটাই নিরাপত্তা পাবেন।
তারপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, তৃণমূল আমলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পাওয়া আরও কয়েকজন নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এবার সেই সম্ভাবনাই বাস্তবে পরিণত হল।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়ি থেকে হাউস গার্ড তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস এবং সুব্রত বক্সীদের নিরাপত্তাতেও কাটছাঁট করা হয়েছে।
লালবাজার সূত্রে দাবি, যাঁরা বর্তমানে সাংসদ বা বিধায়ক পদে রয়েছেন, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিরাপত্তা পাবেন। তবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা আর থাকবে না। যাঁরা এখন আর মন্ত্রী নন বা সরকারি পদে নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও নতুন নিরাপত্তা নীতি কার্যকর করা হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের নিরাপত্তাও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি পীযূষ পাণ্ডের নিরাপত্তাতেও কাটছাঁট করা হয়েছে বলে খবর।
তৃণমূল আমলে প্রয়োজনের তুলনায় অনেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা পেতেন— এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল বিরোধীদের। নতুন সরকার সেই ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।



