আমেরিকার সঙ্গে দীর্ঘ ৫০ বছর পুরোনো পেট্রোডলার চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল সৌদি আরব। ১৯৭৪ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ৯ জুন সেই তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। এই মুহূর্তে আর নতুন করে পেট্রোডলার চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী নয় সৌদি। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: কাঞ্চনজঙ্ঘা রেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী


সবার আগে জানা প্রয়োজন, এই পেট্রোডলার চুক্তি ঠিক কী? পেট্রোডলার হল পেট্রোলিয়াম বা কোনও খনিজ তেল রফতানির জন্য ব্যবহৃত মার্কিন ডলার। আরও সংক্ষেপে, পেট্রোডলার শব্দটি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলি তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত মার্কিন ডলারকে বোঝায়। ঘটনার সূত্রপাত কোথায়? আসলে, সত্তরের দশকে আমেরিকা অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে। সেই সময় আচমকাই ডলারের দাম পড়তে শুরু করে। সঙ্গে ছিল পেট্রোলিয়ামের চরম ঘাটতি।

অন্যদিকে, ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু হয় যুদ্ধ। একদিকে, মিশর, সিরিয়া ও আরবের অন্যান্য দেশগুলি। বিপক্ষে, ইজরায়েল। সেই যুদ্ধে ইজরায়েলের পাশে দাঁড়ায় আমেরিকা। ব্যাস, পশ্চিম এশিয়ার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি আমেরিকাকে খনিজ তেল সরবরাহ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে, আমেরিকার তেল সঙ্কট আরও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতেই সৌদির সঙ্গে পেট্রোডলার চুক্তিতে আবদ্ধ হয় ওয়াশিংটন।
কী ছিল সেই চুক্তিতে? সৌদি আমেরিকাকে তেল সরবরাহ করবে। অবশ্যই ডলারের বিনিময়ে। পরিবর্তে আরবের এই দেশকে সামরিক সাহায্য করবে আমেরিকা। চুক্তির আরও শর্ত ছিল, সৌদি শুধু আমেরিকা নয়, অন্য যে দেশেই খনিজ তেল বিক্রি করবে, অর্থের লেনদেন হবে ডলারে। কিন্তু, পেট্রোডলার থেকে যে রাজস্ব আদায় হচ্ছে, তা আমেরিকায় ফেরত পাঠাতে হবে সৌদিকে।



এবার প্রশ্ন, কেন পেট্রোডলার চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল সৌদি? আসলে, আর শুধুমাত্র মার্কিন ডলারে নিজেদের আবদ্ধ রাখতে চায় না সৌদি। তাঁরা চায়, অন্যান্য দেশের মুদ্রাতেও খনিজ তেল বিক্রি করতে। যেমন, চিনের ইউয়ান, ইউরোপের ইউরো, রাশিয়ার রুবেল, জাপানের ইয়েন ইত্যাদি। কারণ, মার্কিন ডলারের ‘দাম’ বিগত কয়েক বছরে অনেক কমেছে। অনেক দেশই মার্কিন ডলারের নির্ভরতা থেকে বেরোতে চাইছে।
ডলারের চেয়ে ইউয়ান, রুবেল, ইউরো বা ইয়েনের ‘দাম’ অনেকটাই বেড়েছে। ফলে, সৌদি নিজেদের ব্যবসাকে আরও প্রসারিত করতে চায়। এই মুহূর্তে আমেরিকার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী চিন। তাঁরা এই বিষয়টি থেকে ফায়দা তুলতে চাইবে। সঙ্গে আমেরিকায় আবার অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
আমেরিকার সঙ্গে পেট্রোডলার চুক্তি বাতিল করল সৌদি, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাবের আশঙ্কা!

তাহলে, তাঁরাও চাইবে গোটা বিশ্বে আরও ব্যবসা বাড়াতে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি, যেমন, ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ইত্যাদির থেকে আরও মুনাফা কামাতে চাইবে ওয়াশিংটন। ফলে, বিশ্ব অর্থনীতিতে একটা প্রভাব পড়বে। এখন আমেরিকা এই পরিস্থিতিকে কীভাবে মোকাবিলা করে সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।







