কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত ডিএ (DA) বৃদ্ধি করলেও পশ্চিমবঙ্গে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। ২০২৩ সালে বড়দিনের অনুষ্ঠানে ডিএ বৃদ্ধি করা হয়েছিল, তবে ২০২৪-এর বড়দিনে সেই ঘোষণা আর আসেনি। এদিকে ২০২৪ সালের বাজেটে ৪% মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হলেও, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ এখনও ১৪% হারে রয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ বর্তমানে ৫৩%। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ৩৯% হারের বিশাল পার্থক্য তৈরি হয়েছে। (Breaking News – বাজেটে ৪ শতাংশ DA ঘোষণা করল রাজ্য সরকার, অবশেষে সুখবর সরকারি কর্মীদের জন্যে)
একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১ সালের জুন মাস থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্য সরকার ডিএ-খাতে প্রায় ২.১৯ লাখ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। সরকারি কর্মচারী সংগঠনের মতে, এই অর্থ যদি উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হয়, তবে তার কৃতিত্ব রাজ্য সরকারি কর্মীদেরও পাওয়া উচিত।


২০২৪ সালের বাজেটে ডিএ বৃদ্ধির সম্ভাবনা কতটা?
✅ বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ: ১৪%
✅ বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ: ৫৩%
✅ রাজ্য-কেন্দ্রের ডিএ তফাত: ৩৯%
✅ ২০২৪ সালের বাজেটে ঘোষিত ডিএ বৃদ্ধি: ৪%
✅ সম্ভাব্য নতুন ডিএ হার: ২০% (যদি ৬% বৃদ্ধি হয়)
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ৬% ডিএ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বেড়ে হবে ২০%, কিন্তু কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের সঙ্গে ৩৩% পার্থক্য থেকেই যাবে।


বাংলায় ডিএ বৃদ্ধির নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কেন্দ্রীয় নিয়মের কী অবস্থা?
কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে ডিএ বৃদ্ধি করা হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গে ডিএ বৃদ্ধির কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কখনও তা বড়দিনের অনুষ্ঠানে ঘোষণা হয়, কখনও বাজেটে ‘চিরকুটে’ ঘোষণা করা হয়, আবার কখনও পুরো বছরই কোনও ঘোষণা আসে না।
২০২৩ সালের বড়দিনে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য ৪% মহার্ঘ ভাতা (DA) ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪-এর বড়দিনে সেই ঘোষণা আসেনি, যা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
কেন বাড়ানো উচিত মহার্ঘ ভাতা (DA)?
1️⃣ মূল্যস্ফীতি: বাজারে দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
2️⃣ রাজ্য-কেন্দ্র পার্থক্য: কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা যেখানে ৫৩% ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের কর্মচারীরা মাত্র ১৪% ডিএ পাচ্ছেন।
3️⃣ অষ্টম বেতন কমিশন: কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৮ম বেতন কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছে, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। কিন্তু রাজ্যে এখনও ৬ষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর রয়েছে।
4️⃣ প্রাপ্য দাবি: আন্দোলনকারীদের দাবি, ৩৯% বকেয়া ডিএ রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে দিতে হবে।
অষ্টম বেতন কমিশন ঘোষণা, কিন্তু রাজ্যে সপ্তমও আসেনি!
✅ কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে ৮ম পে কমিশনের অনুমোদন দিয়েছে, যা ২০২৬ সালে কার্যকর হবে।
✅ পশ্চিমবঙ্গে এখনো ৬ষ্ঠ পে কমিশন চালু রয়েছে, এবং ৭ম বেতন কমিশন কবে আসবে, তা অনিশ্চিত।
✅ ২০১৫ সালে গঠিত হয় ৬ষ্ঠ পে কমিশন, যা ২০১৯ সালে অনুমোদিত হয় এবং পরে কার্যকর হয়।
এদিকে, ১০ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)-এর স্থায়ী কমিটির স্টাফদের সাথে কেন্দ্রীয় কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগ (DoPT) এই বৈঠক করেছে। এই বৈঠকে ৮ম বেতন কমিশনের টার্মস অফ রেফারেন্স নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কেন্দ্র ইতিমধ্যে ৮ম বেতন কমিশন কার্যকর করার জন্য সদস্য ও চেয়ারম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এখনো ৭ম পে কমিশনের ঘোষণাও হয়নি, যা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য হতাশাজনক।
ডিএ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে পড়ার কারণ
📌 রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা: রাজ্যের দাবি, উন্নয়নের জন্য ডিএ বৃদ্ধি কমানো হয়েছে।
📌 নির্দিষ্ট নিয়মের অভাব: কেন্দ্রীয় সরকারের মতো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিএ বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম নেই।
📌 প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: রাজ্য সরকার মনে করছে, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়।
রাজ্য সরকারের ২০২৪ সালের বাজেটে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা এলেও তা পর্যাপ্ত নয়। কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের সঙ্গে পার্থক্য কমাতেও অন্তত ৩৯% ডিএ বৃদ্ধি প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গে ৭ম পে কমিশনের ঘোষণাও হয়নি, অথচ কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে ৮ম পে কমিশন কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের দাবি, প্রতিশ্রুত ডিএ না দেওয়া মানে তাদের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা। রাজ্য সরকার যদি দ্রুত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন না করে এবং ডিএ বৃদ্ধির নিয়মিত ঘোষণা না দেয়, তাহলে কর্মচারীদের অসন্তোষ আরও বাড়বে।







