আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবের কন্যা রোহিণী আচার্য ফের আলোচনার কেন্দ্রে। কখনও কিডনি দান করে বাবার জীবন বাঁচানো মেয়ে, এবার অভিযোগ জানালেন—নিজের পরিবারের মধ্যেই নাকি অপমানের শিকার হয়েছেন। পাটনার বাড়ি ছেড়ে মাস খানেক বাইরে থাকার পর এবার তিনি আর্জি জানাচ্ছেন পিতৃসম নীতীশ কুমারের প্রশাসনের কাছে।
রোহিণীর আবেদন—বিহারের প্রতিটি নারী যেন তাঁদের বাপের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয় পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর কথায়, স্বনির্ভরতা শুধু আর্থিক সহায়তায় হয় না, প্রয়োজন বাড়ির ভেতরের নিরাপত্তাও।


“আমাকে অনাথ করে দেওয়া হয়েছে”—রোহিণীর তীব্র ক্ষোভ
বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি–ইন্ডিয়া জোটের বড় হার ঘোষণার পরদিনই রোহিণী এক্স-এ লেখেন—
-
তাঁকে নাকি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে
-
এমনকি তাঁর দিকে জুতো ছোড়া হয়
-
অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি বাড়ি ছাড়েন
তিনি লেখেন—
“আমি সত্যের সঙ্গে আপস করিনি, তাই আমাকে অপমান সহ্য করতে হয়েছে। গতকাল এক অসহায় মেয়ে তাঁকে ভালোবাসা পরিবারের কাছ থেকে দূরে যেতে বাধ্য হল।”
এরপর লালুর আরও তিন মেয়ে—রাজলক্ষ্মী, রাগিনী ও চান্দা—ও পাটনার বাড়ি ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে বেরিয়ে যান। এতে জল্পনা ছড়ায়—লালু পরিবারের ভেতরকার ফাটল কি আরও গভীর?

নীতীশকে উদ্দেশ করে আবেদনের পর ফের জল্পনা
রোহিণী তাঁর পোস্টে কারও নাম উল্লেখ না করলেও স্পষ্টভাবে দায়িত্ব দেন নীতীশ প্রশাসনকে।
তিনি লেখেন—
-
মহিলাদের আর্থিক সাহায্য যথেষ্ট নয়
-
পরিবারে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত স্বনির্ভরতা অসম্ভব
-
বাপের বাড়ি যেন সব নারীর নিরাপদ আশ্রয় হয়—এটা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বার প্রকাশ্যে নীতীশকে উদ্দেশ করে বক্তব্য রাখায় জল্পনা তীব্রতর হয়েছে—
তিনি কি তবে আরজেডি ছাড়তে চলেছেন?
কারণ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি—
-
দলের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডল
-
বাবার অ্যাকাউন্ট
-
ভাই তেজস্বী যাদবের হ্যান্ডল
সবই অনফলো করেছেন।
পরিবারকে কটাক্ষ করতেও দেখা গেছে তাঁকে।
আরজেডিতে কি বড় ফাটল?
রাজনৈতিক মহলের মতে—
-
আরজেডির ভেতরে বহুদিন ধরেই মতানৈক্য রয়েছে
-
নির্বাচনে পরাজয় সেই ফাটল আরও বাড়িয়েছে
-
রোহিণীর বার্মাথ্যের পর পরিবারে অস্বস্তি চরমে
তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টে উঠে আসা আবেগঘন ভাষা, নীতীশ সরকারের প্রতি আস্থা, এবং দলের বিরুদ্ধে ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ—সব মিলিয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকেই।
তাহলে কি নীতীশ শিবিরে যোগ দিচ্ছেন রোহিণী?
যদিও রোহিণী সরাসরি কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা বলেননি, তবে—
-
দলীয় হ্যান্ডল আনফলো
-
পরিবারের প্রতি ক্ষোভ
-
নীতীশ প্রশাসনের প্রতি ইতিবাচক মন্তব্য
—এসবই ইঙ্গিত দেয়, ভবিষ্যতে তিনি নতুন রাজনৈতিক অবস্থানে যেতে পারেন।
বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
রোহিণীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী?









