নজরবন্দি ব্যুরোঃ এই ভালো, এই খারাপ। বিধানসভার আগে এবং বিধানসভার পরে তৃণমূলের এই নীতি নিয়ে দলের কর্মীরাই ফিসফাস করতে শুরু করেছিলেন। কানাঘুষো সেই কথাবার্তা শীর্ষ নেতৃত্বের কানে গেলেও খুব একটা পাত্তা দেওয়া হয়নি। কিন্তু আগুনের আঁচ তখনই পাওয়া গেল যখন আক্রমণ হল সরাসরি দলের সেকেণ্ড ইন কম্যান্ডকে।
আরও পড়ুনঃ হাইকোর্ট ও কমিশনকে ‘সর্বান্তকরনে’ ধন্যবাদ, সবাইকে কোভিড মোকাবিলায় আহ্বান অভিষেকের।


ইস্যু কোভিড মোকাবিলা। দলের সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্য নিয়ে সাংসদের সমালোচনা। তাতেই বাধ সাধল। হুড়মুড়িয়ে শুরু হয়েছে আক্রমণ এবং প্রতি-আক্রমণ। মুহুর্তের মধ্যে শিরোনামে আসা খবরের পর্দার পিছনে কোন ঘটনা রয়েছে? শোনা যাচ্ছে, ঘাসফুলেতে কাদা ছোড়াছুঁড়ি পদ্ম শিবির থেকে আসা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়? সেই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে দলের অন্যতম ফ্রেশ মুখ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে গিয়েছিলেন বিজেপিতে। নির্বাচনে নিজের পুরাতন কেন্দ্র ডোমজুড় থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জিততে পারেননি। তখন থেকেই রাজীবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি রাজীবের বিরুদ্ধে কল্যাণের একাধিক মন্তব্যকে সায় দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে রাজনীতি থেকে ব্রাত্য রেখেছিলেন।



কল্যাণ সহ অন্যান্য নেতাদের চাপে পড়েই ত্রিপুরায় গিয়ে তৃণমূলের যোগদান করতে হয়েছিল রাজীবকে। সম্প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল রাজীবকে। গদ্দার, মীরজাফরের তকমা এখনও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাঁকে। এরপরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল রাজীব এখন আগরতলার নেতা। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে এবিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানিয়েছেন কল্যাণ।
সেখান থেকেই কী ক্ষোভের সুচনা? নাকি অভিষেকের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিতে পারছেন না তিনি? তাহলে কী তৃণমূলের অন্দরেই মমতার বি টিম তৈরি হচ্ছে? এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বক্তব্যকে ঘিরেও। তাঁর কথায়, চুপ থেকে সমর্থন করছেন মমতা।
ঘাসফুলেতে কাদা ছোড়াছুঁড়ি, রাজীব থেকে জটলার শুরু

এই প্রেক্ষাপটে মমতার ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের নেতাদের মধ্যে এই কাদা ছোড়াছুঁড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে হস্তক্ষেপ করতে বলেন দলনেত্রী। অভ্যান্তরীন বিষয়ে দলের নেতারা মুখ খুললেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সতর্কবার্তা তৃণমূল মহাসচিবের।







